ইউনূস গোষ্ঠীর নেতৃত্বে তুরস্ক থেকে অস্ত্র এনে আরাকান আর্মিকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর গোপন সফর ও সামরিক বৈঠক নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার আড়ালে এক ভয়ঙ্কর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র!
তুরস্ক সফরে গিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. আশিক চৌধুরী তুরস্কের রাষ্ট্রীয় অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান MKEK-এর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেছেন।
কিন্তু প্রশ্ন জাগছে—এই সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?
সরকারি সফরে কামানের গোলা, বিস্ফোরক ও হালকা অস্ত্র হাতে নিয়ে আশিক চৌধুরীর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, এই সফরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো সামরিক প্রতিনিধি ছিলেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের আড়ালে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি প্রক্সি ষড়যন্ত্র, যার মূল লক্ষ্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মিকে অস্ত্র সরবরাহ।
এর নেতৃত্বে আছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর আস্থাভাজন উপদেষ্টারা।
অস্ত্র ও করিডোর—একটি নতুন প্রজেক্টের ছায়া
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে:
- “মানবিক করিডোর” প্রতিষ্ঠার নামে রাখাইন রাজ্যে অস্ত্র সরবরাহের চেইন গড়ে তোলা হচ্ছে।
- তুরস্কে আশিক চৌধুরীর সফরের পাশাপাশি একই সময় তুরস্কে গিয়েছেন তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
- এদের কয়েকজন তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে গোপন সামরিক বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন।
উদ্দেশ্য?
আরাকান আর্মিকে ড্রোন, হালকা অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করা, যা বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।
জামায়াত ও শিবিরের সম্পৃক্ততা
গোপন তহবিল এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীকেও এই প্রকল্পে জড়ানো হয়েছে।
বিশেষ করে:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির সভাপতি সাদিক কায়েম তুরস্কে গিয়েছেন অস্ত্র কারখানা ঘুরে দেখতে।
- তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার অর্থে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের অফিস সাজানো হয়েছে।
গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন—এই পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা, যারা পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে মাঠে নামছে।
চীনের প্রকল্পে বাধা দিতেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল?
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাখাইনের কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর হলো চীনের Belt & Road Initiative (BRI)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই বন্দর কুনমিং থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত চীনের বিকল্প রুট হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্র এই রুট অকার্যকর করতে চায় আরাকান আর্মির মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
এজন্য ইউনূস নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর আপত্তি ও দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রাখাইনে করিডোর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করা হয়েছে।
সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এই করিডোর গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি দেশীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রক্সি যুদ্ধে বাংলাদেশকে টেনে আনা এবং দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্রের জাল গাঁথা—
ড. ইউনূস ও তার গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
তুরস্কের কারখানা, ঢাকার জামায়াত অফিস, রাখাইনের বিদ্রোহী ঘাঁটি—সবকিছুই যেন একটি বড় মানচিত্রের অংশ।
প্রশ্ন হলো—এই মানচিত্রের শেষ গন্তব্য কোথায়? স্বাধীন আরাকান? না কি বিশৃঙ্খল দক্ষিণ এশিয়া?
