রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক মন্তব্যে এনসিপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে। এই বিশ্লেষণে তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এনসিপির আদর্শ ও রাজনীতির ধারা খতিয়ে দেখা হয়েছে।

জাতীয় রাজনীতির একটি নতুন নাম এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি)। এই নতুন দলটি ইতিমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তবে আলোচনার অনেকটাই নেতিবাচক প্রশ্নবোধকতায় ঘেরা। বিএনপি ঘরানার সাবেক এমপি রুমিন ফারহানা সম্প্রতি একটি মন্তব্য করে এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন:
“আমরা জানিনা এনসিপির কোন গঠনতন্ত্র তৈরী হয়েছে কিনা। আমরা তাদের রাজনীতি বলতে যা দেখছি আওয়ামীলীগ কেন্দ্রিক- আওয়ামীলীগ ব্যান করো- আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ করো-এটাই তাদের মূল কথা। এর বাইরে তারা মানুষকে কি দিবে, আমরা জানিনা।”
এই বক্তব্য যেমন এনসিপির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, তেমনি এটি বৃহত্তর বিরোধী রাজনীতির গতিপথও নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে একটি সুস্পষ্ট দিক উঠে এসেছে—এনসিপির রাজনীতি আপাতদৃষ্টিতে একমাত্রিক। আওয়ামী লীগবিরোধিতা যেন দলটির মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুমিন ফারহানা নিজে বিএনপি ঘরানার হলেও এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তিনি অন্ততপক্ষে একটি 'বিকল্প রাজনৈতিক ন্যারেটিভ' প্রত্যাশা করছেন।
এখানে প্রশ্ন ওঠে—এনসিপির রাজনীতি কি শুধুই নেগেটিভ এজেন্ডা ভিত্তিক?
এনসিপি এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক আদর্শ, নীতিমালা বা অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেনি। এই দলটির নেতৃত্ব যাঁরা দিচ্ছেন, তাঁরা প্রধানত বিএনপির সাবেক নেতাকর্মী বা সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা একদল বুদ্ধিজীবী ও তরুণ। ফলে এনসিপি অনেকটাই একটি "আন্দোলন-ভিত্তিক দল" হয়ে আছে, যেখানে ‘প্রতিবাদ’ই মূল রাজনীতি, প্রস্তাবনা নয়।
এমন রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে জনসমর্থন আদায় করতে পারে না, যদি না তা কোনও গঠনমূলক বিকল্প দেয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগবিরোধিতা একটি লম্বা ধারার অংশ, যা বিভিন্ন সময়ে নানা গোষ্ঠীর জন্য রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু এই বিরোধিতা যদি কেবল নিষেধ-নির্ভর হয়, যেমন ‘আওয়ামী লীগ ব্যান করো’, ‘তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করো’—তবে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক ধারণার বিরোধী হয়ে দাঁড়ায়।
রুমিন ফারহানার মন্তব্য এই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু সমালোচনা করেননি, বরং একটি রাজনৈতিক ‘হ্যালো’ রেখেছেন—রাজনীতি হোক বিকল্প দিয়ে, নিষেধ দিয়ে নয়।
রুমিন ফারহানার মন্তব্যের গভীরতা আছে—যদি তা একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে পড়া যায়। রাজনীতি কেবল বিরোধিতা নয়, এটি বিকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রও। এনসিপির মতো নতুন দল যদি সেই বিকল্প গঠনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা কেবল ‘কণ্ঠস্বর’ হয়ে থাকবে, ‘আশ্বাস’ নয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সত্যিকারের পরিবর্তন তখনই আসবে, যখন বিরোধিতা নয়, প্রস্তাবনাই হবে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
