গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন এনসিপির গঠন নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদকে NCP গঠনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিকল্প শক্তির নামে নতুন নতুন দলের আবির্ভাব নতুন নয়। তবে এবার যেন ভিন্নতর এক বার্তা নিয়ে এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন দেশের একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যেভাবে এনসিপির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
রাশেদ খাঁনের ভাষায়, এনসিপি কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক উদ্ভব নয়; বরং এটি সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত একটি প্রকল্প। তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ করে বলেন—নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ হলেন এই দলের মাস্টারমাইন্ড। এদের প্রত্যেকেরই সরকারি ক্ষমতা বা প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং এখনো রয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দলের মূল উদ্দেশ্য হলো মাঠের রাজনীতিতে বিরোধী রাজনীতির ছায়া তৈরি করে আন্দোলনের ধারাকে দুর্বল করা। রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যখন নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময়ে মন্ত্রীপাড়ার বাসায় গোপন বৈঠক, রাজনৈতিক প্রলোভন ও নানা পক্ষকে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলে।
এই তথ্যগুলো এসেছে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষ প্রলোভনের মাধ্যমে। রাশেদ বলেন, “আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে তারা টার্গেট করেছে এবং দলভুক্ত করার চেষ্টা করেছে।”
- নাহিদ ইসলাম: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা। রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা বেশ বিতর্কিত। মন্ত্রীপাড়ার বাসায় এনসিপি গঠনের মূল বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
- মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ: বর্তমানে সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং এনসিপির প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে দাবি গণঅধিকার পরিষদের।
রাশেদ আরও বলেন, “এই তিনজনের মাধ্যমেই এনসিপির কাঠামো গড়ে তোলা হয়। তারা কোনো গণআন্দোলনের প্রতিনিধি নন—বরং সরকারি নকশায় প্রভাবিত একটি দলের রূপকার।”
রাশেদ খাঁনের এমন বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং এটি একটি বড় প্রশ্ন তোলে—সরকার কি বিকল্প বিরোধী দলের আড়ালে আসল বিরোধীদের রাজপথ থেকে সরিয়ে দিতে চায়?
যদি এনসিপির গঠনের পেছনে সত্যিই এমন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ থাকে, তবে সেটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক। এটা দেশের রাজনৈতিক প্লুরালিজমের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, যেখানে প্রকৃত বিরোধীদের জায়গা দখল করে নেয় সরকারের অনুমোদিত বিরোধীরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি নিয়ে মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনের অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ছায়া রাজনীতির নতুন এক অধ্যায় উন্মোচন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে যদি রাশেদের বক্তব্যের পেছনে সত্য থাকে, তবে এটি শুধু একটি দলের গঠন নয়—বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক নতুন রূপান্তরের আভাস।
