আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, জনগণের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে আওয়াজ তুলব। দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থকেই সর্বাগ্রে স্থান দিয়ে কাজ করব।
দেশাত্ববোধের অনুপ্রেরনায় আওয়ামীলীগের লিফলেট যা এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় তুলে ধরা হলো।
প্রিয় দেশবাসী,
চলমান ঘটনা প্রমাণ করে, আমরা কেউ ভালো নেই। আমাদের কারো জানমালের নিরাপত্তা নেই। সকলের জীবন-জীবিকার চরম অনিশ্চয়তা। সর্বত্রই দুর্নীতি, সর্বত্রই সর্বনাশের ঘনঘটা। বাংলাদেশের মানুষ এই গণ্ডগোল, নৈরাজ্য, সমাজিক অস্থিরতা আর বেকারত্বের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সংকটের সময় একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী চক্র নানা ছলচাতুরির আশ্রয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে এসেছে।
বর্তমানে এমনই এক চক্রান্তের ভয়াল থাবায় জর্জরিত আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে আজ ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি গোষ্ঠী দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, গুজব, অপপ্রচার, অগ্নিসংযোগ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এই গোষ্ঠী তৎপর। এই গোষ্ঠীর নেপথ্যে থাকা মোহাম্মদ ইউনুস দেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছেন। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নব্য উদারনীতিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুজাতিক কোম্পানি ও বিভিন্ন দেশের অর্থলগ্নিকারী দাতাসংস্থাগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশকে একটি তৃতীয় বিশ্বের পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে মদদ দিচ্ছেন ইউনুস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যর্থ হওয়া এই শোষণব্যবস্থা আজ বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আমরা যে সমৃদ্ধ অর্থনীতির পথে এগিয়ে চলেছি তা আর হারিয়ে যাওয়া ভাঙা ভাঙা শিল্প কারখানার বন্ধ, লাখ লাখ চাকরি হারানো দেশ নয়। আমরা শান্তি চাই, উন্নয়ন চাই। কিন্তু আজ আবারও ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে চট্টগ্রাম কাগজকলের নির্যাতন নির্লজ্জভাবে লিপিবদ্ধ। এমনকি ১৯৮০-৯০-এর দশকে ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংক যে মডেলটি উন্নয়ন সহযোগিতার মুখোশ পরে বাংলাদেশে চালু করেছিল, তা আজ ব্যর্থ প্রমাণিত। সাধারণ মানুষের পোশাক ও খাদ্য অধিকারকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। মানুষের অধিকার হরণ করে পুঁজিপতিদের কাছে শ্রমকে বন্দি করে রাখার জন্যই এই উন্নয়ন মডেল চাপানো হয়েছে। দুর্নীতি এটাও পাশকাঠি। বাংলাদেশে জনপ্রতিনিধিরা যখন নিজেদের ঘাম ও শ্রমে দেশের উন্নয়নে নিবেদিত তখন কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদেশি লবিং করছে। ইউনুসের নিজস্ব ব্যবসার স্বার্থে আইন বহির্ভূতভাবে অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগে তার হাউস লোন মামলা বাতিলের জন্য বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুদানের নামে একের পর এক ব্যবসা পরিচালনা চলছে।
ফ্যাসিস্ট ইউনুস নিজেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিকে খুশি করতে উগ্র-সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং চিহ্নিত যুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য, সামাজিক বিচারের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিনিয়তই অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে ইউনুসের দোসররা। নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বিদেশি শক্তির কাছে দেশকে অপমানিত করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন ইউনুস। আমরা ভুলে যাইনি, ফ্যাসিস্ট ইউনুসের পেছনের জল উত্থাপন হলো বেসরকারি প্রেস অ্যালার্ট হাউজের হাজার হাজার হেক্টর জমির দখলের মাধ্যমে নতুন এক কলোনি স্থাপনের স্বপ্ন। গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে এমন অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য বিস্তারের কৌশলই তার লক্ষ্য। এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সুবিধাভোগী শিক্ষক ও ছাত্রদের নিয়মিতভাবে প্ররোচিত করছেন ইউনুস। একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিকল্পিত নাশকতা আমাদের সমাজকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাজনীতিকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির জন্য ইউনুসের এই অপচেষ্টা দেশের জনগণের প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এদের প্রতি আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক দুর্বিষহ ইতিহাস রেখে যেতে হবে। ইউনুসের বিদেশি মদদপুষ্ট অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ইউনুসের দোষী প্রমাণিত মামলার বিচার যাতে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়, জনগণের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ এ বিষয়টি সুরক্ষিত করতে বদ্ধপরিকর।
প্রিয় দেশবাসী,
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আপনাদের ভালোবাসার শক্তি ও সমর্থনে গঠিত রাজনৈতিক সংগঠন। আমরা সর্বদা জনগণের ক্ষমতার বিশ্বস্ত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। এই দেশবাসীর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় থাকব। আজ একটি গোষ্ঠী ক্ষমতার বাইরে থেকে নানাভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদেশিদের উসকানি দিচ্ছে। তাদের উসকানিতে কিছুসংখ্যক শিক্ষক, পেশাজীবী, সাংবাদিক একটি দুর্নীতিবাজের শাস্তি ঠেকাতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টভাবে দেশে গণতন্ত্রের অপব্যবহার করছে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাই, চলুন মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তুলি। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান হোক মুখ্য। ব্যক্তি নয়, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা হোক মুখ্য। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবেই তার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করুক। ব্যক্তি মোহের কারণে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচিত সরকারের পাশে দাঁড়াই। সরকারের পাশে আমাদের অবস্থান আদর্শ, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা আমাদের সংগঠনের সব সময়ের অঙ্গীকার। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের পাশে থেকেছে, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবে। আমাদের এই অঙ্গীকার কোনও বিদেশি শক্তির কাছে মাথানত নয়, বরং জনগণের আস্থায় বলীয়ান হয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, জনগণের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে আওয়াজ তুলব। দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থকেই সর্বাগ্রে স্থান দিয়ে কাজ করব। এই সংকটময় মুহূর্তে আপনারা আওয়ামী লীগের পাশে থাকুন। আমাদের প্রয়াত নেতার আদর্শ ও ত্যাগে, গণতন্ত্রের উঁচু মঞ্চে আমরা সব সময় আপনাদের সাথেই থাকব।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আবারও কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ মুক্তি পাক।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
