মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ এবং কর্মকর্তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন। নতুন অধ্যাদেশে মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞায় পরিবর্তন এসেছে।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা এবার থেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। অন্যদিকে, এ সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে গণ্য হবেন। মঙ্গলবার রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান এবং খন্দকার মোশতাক আহমদ সহ মুজিবনগর সরকারের মূল নেতৃত্ব স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্বদানের জন্য ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন।
🔍 কী বলছে নতুন সংজ্ঞা?
- কেবল রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা ব্যক্তি নয়, বরং যারা ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কিংবা প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে যুক্ত হয়েছেন—তাঁরা হবেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’।
- বিদেশে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনকারী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, এমএনএ/এমপিএ এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যরা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানান, “এটি বাতিলের অধ্যাদেশ নয়, বরং একটি শ্রেণিবিন্যাস। কারো অধিকার খর্ব হয়নি।”
❗ ভুয়া প্রচার নিয়ে সতর্কতা
এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বা জাতীয় চার নেতার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বাতিল—এটা সম্পূর্ণ ভুয়া খবর (Fake News)। নতুন অধ্যাদেশে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।”
📌 গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:
- মুজিবনগর সরকারের মূল সদস্যরা হবেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’।
- কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’।
- ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’, ‘বেতার শিল্পী’, ‘সাংবাদিক’–এরাও সহযোগী ক্যাটাগরিতে।
- বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল হয়নি—ফেইক নিউজ।
