গত ৯ মাসে বাংলাদেশে দেখা গেছে এক ভয়াবহ শাসন বিপর্যয়—গণতন্ত্র হরণ, প্রশাসনিক দলীয়করণ, বিদেশি প্রভাব ও ভয়ঙ্কর দুর্নীতিতে অর্থনীতি আজ পতনের দ্বারপ্রান্তে।
গত ৯ মাসে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার যে করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ইতিহাসে এক ভয়াবহ পতনের নিদর্শন হয়ে থাকবে। যারা গণতন্ত্র রক্ষার নামে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা আজ হয়ে উঠেছেন নিষ্ঠুর ব্যর্থতার প্রতীক। এই সময়জুড়ে দেখা গেছে ঔদ্ধত্য, দমননীতি, এবং দুর্নীতির অব্যাহত মহোৎসব।
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ, জরুরি তহবিল এমনকি বৈদেশিক অনুদান পর্যন্ত লুটপাট হয়েছে। অফশোর ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা স্থানান্তরের প্রমাণ মিলছে, আর সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের পাসপোর্টে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ভিসা। যেন দেশের সর্বনাশ করে বিদেশে পলায়নের ছক আগেই প্রস্তুত।
এই শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনকে করেছে তামাশা, বিচারব্যবস্থাকে করেছে নিস্ক্রিয়, এবং প্রশাসনকে পরিণত করেছে দলীয় অস্ত্রে। গণমাধ্যমে চলছে নিয়ন্ত্রণ, ভিন্নমত দমন এবং এক ধরনের কৃত্রিম নীরবতা তৈরির চেষ্টা।
বিশেষভাবে আশঙ্কার বিষয় হলো—এই অরাজকতার সুযোগে কিছু বিদেশি রাষ্ট্র ও বহুজাতিক দালালগোষ্ঠী বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জনগণের প্রশ্ন—এটাই কী সেই ‘পরিবর্তন’? কোথায় সেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা?
⚖️ আমরা কী চাই?
- অবিলম্বে জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থা
- বিদেশি প্রভাবমুক্ত, জনগণকেন্দ্রিক প্রশাসন
- দুর্নীতির বিচার ও লুটপাটের সম্পূর্ণ তদন্ত
- একটি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সংস্কার
আজ ইতিহাসের এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। এই লুটেরা ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ না হলে জাতির অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে।
