খুলনা বিভাগের ‘রেড জুলাই’ সেলের সদস্য সোহান মোল্যার বাড়ি থেকে উন্নতমানের স্নাইপার রাইফেল উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে সংগঠনটির প্রচার সেলের সদস্য তালিকা।
📍 নিজস্ব প্রতিবেদক | ৯ জুন ২০২৫;
সাম্প্রতিককালে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে এক চরমপন্থী সংগঠনের তৎপরতা। নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে ‘রেড জুলাই – খুলনা সেল’-এর এক সদস্য সোহান মোল্যার ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে উন্নতমানের স্নাইপার নাইট্রো রাইফেল।
অভিযানে তার অবস্থান শনাক্ত হলেও, অভিযুক্ত সোহান মোল্যা অভিযানের আগে পালিয়ে যায়।
🔎 স্নাইপার উদ্ধার: সন্ত্রাসের নতুন রূপ
রোববার দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায় পুরুলিয়া গ্রামে।
অভিযানে টেলিস্কোপিক সাইট ও সাইলেন্সার যুক্ত ৪.৫ ক্যালিবারের এক নাইট্রো স্নাইপার রাইফেল উদ্ধার করা হয়, যা বিছানার নিচে মজুদ রাখা হয়েছিল।
সেনাবাহিনীর বরাতে জানা যায়, এই অস্ত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি দিতে এবং গোপন অপারেশনে ব্যবহারের পরিকল্পনায় সংরক্ষিত ছিল। এটি স্পষ্টত একটি যুদ্ধস্তরের অস্ত্র, যা রাষ্ট্রীয় অনুমতি ছাড়া রাখার কোনো বৈধতা নেই।
🟥 রেড জুলাই – খুলনা সেলের প্রচার ইউনিট:
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, ‘রেড জুলাই – খুলনা সেল’ এর প্রচার শাখায় রয়েছেন নিম্নোক্ত সাতজন সদস্য:
১. সুমাইয়া সুলতানা
২. মোঃ নাইম ইসলাম
৩. মোঃ মেহেদী তকদির
৪. তানজিম তূর্য
৫. এস এম শারাফি
৬. ফাতেমা তাজ জোহরা
৭. মোঃ সোহান মোল্যা (সদ্য স্নাইপার উদ্ধার হওয়া অভিযুক্ত)
এই তালিকা থেকে অনুমান করা যাচ্ছে, সংগঠনটি শুধু মাঠ পর্যায়ে নয়, প্রচার ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারেও সুসংগঠিত। সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়।
🟨 অস্ত্রের উৎস ও বিপদের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরণের উন্নত অস্ত্র দেশীয় অস্ত্র চক্র বা আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার চক্র ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। অস্ত্রটি কোথা থেকে এলো, কারা সরবরাহ করলো—তা এখনই তদন্তের কেন্দ্রে।
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন:
“সাধারণ ছাত্র পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা তরুণরা যখন গোপনে স্নাইপার মজুদ করে, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রবিরোধী নেটওয়ার্ক গভীরে ঢুকে গেছে।”
🟩 আইনগত পদক্ষেপ ও সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার
উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি কালিয়া থানার পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ‘রেড জুলাই’-এর মতো সংগঠনের “সব ঘাঁটি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান থামবে না”।
একটি গ্রামে একজন কলেজ শিক্ষার্থীর ঘরে যুদ্ধস্তরের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা নিছক বিচ্ছিন্ন নয়—এটি একটি বৃহৎ, সুগঠিত চক্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত।
‘রেড জুলাই’ খুলনা সেলের সদস্যদের নাম সামনে আসার পর, সরকার, নিরাপত্তা সংস্থা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বেড়েছে—এদের আইনের আওতায় এনে ভবিষ্যৎ রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
