দশ মাস পর ভারতে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ঈদ উদ্যাপন ও রাজনৈতিক পুনর্মিলনের এই সফর কতটা পারিবারিক, আর কতটা কৌশলগত?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন অনিশ্চয়তা, তত্ত্বাবধায়ক শাসনের দমননীতি ও রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাসনের মতো জটিল প্রেক্ষাপট বিদ্যমান, তখন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভারতে পুনর্মিলন একটি আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্তের বাইরেও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে।
দীর্ঘ দশ মাস পর গত ৬ জুন ভারতে পৌঁছান জয়, ঠিক ঈদের আগের দিন। ঈদুল আযহার দিন মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো এবং কয়েকদিন ধরে দিল্লিতে একান্তভাবে অবস্থান করা—এমন দৃশ্য একদিকে যেমন পারিবারিক মিলনের প্রতীক, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এটি এক গভীর বার্তা।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই সফর সাধারণ পারিবারিক সফর নয়। ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, তাঁকে VVIP পর্যায়ের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার গোপন বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এমনকি তাঁর আগমনের তথ্যও সীমিত পরিসরে জানানো হয় শুধু বিশ্বস্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে প্রথমে রাখা হয় গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটির একটি সুরক্ষিত টার্মিনালে, পরে সরিয়ে নেওয়া হয় গোপন ঠিকানায়। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে মোদি সরকার তাঁর এই নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে, যাতে বিরোধীদলগুলোরও সম্মতি রয়েছে।
জয়ের রাজনৈতিক অভিলাষ বা দলীয় দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে সরাসরি কোনও পদক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। জানা গেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন, কারণ তত্ত্বাবধায়ক ইউনূস সরকার তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল করেছে।
দলীয় সূত্র বলছে, জয় ভারতে দীর্ঘ সময় থাকার পরিকল্পনা করছেন না, বরং শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে পারেন। তাঁর কলকাতা সফরের সম্ভাবনার কথা উঠলেও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সেই সম্ভাবনা নাকচ করেছে।
যদিও সফরকে ‘পারিবারিক’ বলা হচ্ছে, তবুও এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ও জয়ের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে কি না—তা নিয়ে জল্পনা চলছেই। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এই মুহূর্তে তাঁরা মা-ছেলেকে বিরক্ত করতে চান না।
তবে দলের ভবিষ্যৎ গতিপথ, নির্বাচনী প্রস্তুতি বা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে এই সাক্ষাৎ একটি কৌশলগত মাইলফলক হতে পারে।
বিশেষত, এমন সময় যখন শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবিতে কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ও প্রবাসী আওয়ামী লীগ সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, তখন জয়ের এই সফর একধরনের সমন্বয় প্রক্রিয়া হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
