জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, যিনি রজার রহমান নামেও পরিচিত, মানবিক করিডোর ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্থিরতার ইস্যুতে কিছুদিন পিছু হটলেও, সম্প্রতি তিনি গোপনে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৫: জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, যিনি রজার রহমান নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমশ এক রহস্যময় ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। মানবিক করিডোর ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্থিরতার ইস্যুতে কিছুদিন পিছু হটলেও, সম্প্রতি তিনি গোপনে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাঁর সাম্প্রতিক কার্যকলাপ এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি লন্ডন সফরের আগে ড. খলিলুর রহমান ঢাকায় চীনা দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকটি তাঁর আসন্ন চীন সফরের প্রস্তুতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। গোপন সূত্র থেকে জানা গেছে, চীন সফরে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বা আইএসআই প্রধানের সঙ্গে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে চান।
চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছে তিনি এই বৈঠকের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই তথ্য বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নীতির প্রেক্ষাপটে উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
চীন ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা বা সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের তথ্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষ করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে।
এছাড়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডনে বহুল আলোচিত বৈঠকের দুই দিন আগে, ১১ জুন ২০২৫, তারেক রহমানের বাসায় ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক হয়েছিল।
এই বৈঠকটিই ছিল মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, এবং পরবর্তী ইউনূস-তারেক বৈঠকটি মিডিয়ার জন্য ‘লোক দেখানো’ বলে মনে করা হচ্ছে। এই গোপন বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও, এটি রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিএনপি’র নেতাকর্মীরা গত দুই মাস ধরে ড. খলিলুর রহমান এবং ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তারা মনে করেন, খলিলুর রহমানের ভূমিকা বিতর্কিত এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এমতবস্থায় বিএনপির হাইকামান্ডের সাথে গোপনে খলিলুর রহমানের সাক্ষাত নিয়ে অস্বস্থি বোধ করছেন বিএনিপির নেতাকর্মিরা।
ড. খলিলুর রহমান, যিনি মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গা বিষয়ে হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে যোগ দেন। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মধ্যে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত হন।
বর্তমানে তাঁকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব খাতে অবাধ বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর এই ‘সর্বময় ক্ষমতা’ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তি বাড়ছে।
