১৬ জুন জেনেভায় জাতিসংঘের সামনে ‘ফ্যাসিস্ট’ ইউনূস গংয়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ। শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য ও জাতিসংঘে স্মারকলিপি প্রদান।
গতকাল ১৬ জুন ২০২৫, সোমবার বিকেলে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সদর দপ্তরের সামনে অবস্থিত বিখ্যাত ‘ভাঙা চেয়ার’ ভাস্কর্যের পাশে অনুষ্ঠিত হয় এক ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন। আয়োজক ছিলেন সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগ। মূল প্রতিপাদ্য ছিল—বাংলাদেশে তথাকথিত ‘ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং’-এর হাতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন, হত্যা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং দেশকে এই গোষ্ঠীর কবল থেকে রক্ষার আবেদন।
এই কর্মসূচির তাৎপর্য কেবল প্রতীকী নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশে চলমান মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রেরণের কৌশলও বটে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন, যা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগায়।
তিনি বলেন—
“আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ, মানবিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য সংগ্রাম করছি। কিন্তু একটি গোষ্ঠী আবারও দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিতে চায়। তাদের ষড়যন্ত্র আন্তর্জাতিকভাবে উন্মোচন করতে হবে।”
বিক্ষোভ শেষে জাতিসংঘের মহাসচিব ও মানবাধিকার কমিশনের প্রধান বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এই স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়—
বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রাখা ইউনূস গং বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা, হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটতরাজ চালিয়েছে।
এই ঘটনাগুলোর যথাযথ দলিল, ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষ্যসংবলিত প্রমাণপত্র সংযুক্ত করা হয়।
স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মানবাধিকারকর্মী এম. নজরুল ইসলাম, সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জমাদার নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান এবং বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল হক।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সামনে এই প্রতিবাদ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের একটি সুসংগঠিত কৌশল বলে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবাদ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন ও স্মারকলিপি জমাদান ছিল শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠায় না, বরং দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
