সাংবাদিক আনিস আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ড. ইউনূস প্রতিটি কর্মকাণ্ডে সমাজকে বিভক্ত করছেন। টকশোতে দেওয়া বক্তব্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে রাজনৈতিক মেরুকরণ, ধর্মীয় বিভাজন ও জঙ্গিবাদের অভিযোগ।
সম্প্রতি এক টকশো আলোচনায় প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীরের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সামাজিক পরিসরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, “ড. ইউনূস এসেছেন এই সমাজটাকে টুকরা টুকরা করে দিতে।” এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া ড. ইউনূসের অতীত বক্তব্য ও বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
আনিস আলমগীর অভিযোগ করেন, “উনি প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ডে আমাদের সমাজকে বিভক্ত করে দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার আমলে যতটুকু বিভাজন ছিল, এখন তা ঘরে ঘরে।” এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক উত্তেজনার বর্তমান প্রেক্ষাপটে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ভাষণে তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু আনিস আলমগীরের মতে, তা নিছক কথার কথা ছিল। বরং তিনি অভিযোগ তোলেন, “উনি আসলে এখানে জঙ্গিদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন।” এই বক্তব্যে স্পষ্টতই প্রতিফলিত হয় ড. ইউনূসের প্রশাসনের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ উসকে দেওয়ার অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত ও ভাষাগত দৃষ্টিভঙ্গি দেশের বিভাজনকে প্রশ্রয় দিয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ এবং রাজনৈতিক লাইন দিয়ে সমাজে বিভাজন এখন আরও প্রকট।
আনিস আলমগীর আরও বলেন, “তিনি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখেছেন।” যদিও কোনো দলের নাম তিনি উল্লিখিত করেননি, বোঝাই যাচ্ছে তা আওয়ামীলীগের দিকে ইঙ্গিত। তিনি মনে করেন, এই রাজনৈতিক ডামাডোল থেকে উত্তরণের পথ একটাই—“ড. ইউনূস সুন্দরভাবে একটা নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেন।”
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ড. ইউনূস কি স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনের পথ তৈরি করছেন, নাকি অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছেন?
আনিস আলমগীর সতর্ক করে বলেন, “এই বিভক্তির খেসারত এই জাতিকে দিতে হবে, তাকেও দিতে হবে।” এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করছেন যে, সমাজে বর্তমানে যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজন চলছে, তা দীর্ঘমেয়াদে একটি জাতির জন্য ভয়ানক পরিণতির দিকে যেতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যখন মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকার, হিন্দু বনাম মুসলিম বা সরকারপন্থী বনাম সরকারবিরোধী এই বিভাজন এত তীব্র হয়ে ওঠে, তখন তা গণতন্ত্রের শেকড়কে নড়ে দেয়।
এর দায় শুধু একজনের ওপর চাপানো উচিত নয়—কিন্তু নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি অবশ্যই দায় এড়াতে পারেন না।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই—রাজনৈতিক মেরুকরণ, বৃহৎ দলের বর্জন, এবং ধর্মীয় বিভাজন। আনিস আলমগীরের বক্তব্য সেই অভিযোগগুলোকেই নতুনভাবে শক্তিশালী করেছে। একটি অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত সবাইকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পথ তৈরি করা। কিন্তু প্রশ্ন হলো—ড. ইউনূস কি সে পথে হাঁটছেন, নাকি সমাজকে আরো বিভক্ত করে রেখে যাচ্ছেন?
