ফেনীতে স্বাস্থ্য সহকারি পদে সরকারি চাকরির জন্য ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অডিও ভাইরাল। অভিযুক্ত বৈছা সমন্বয়ক নাহিদ রাব্বি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংযোগের দাবিতে বিতর্কের কেন্দ্রে।
ফেনীর পরশুরামে সরকারি চাকরির জন্য ১০ লাখ টাকার ঘুষ দাবির একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হবার পর জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা এবং জনমনে গভীর উদ্বেগ। অভিযোগ উঠেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছা) ও ন্যাশনাল চেঞ্জ প্রজেক্ট (এনসিপি)–এর উপজেলা সমন্বয়ক নাহিদ রাব্বি, এক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছে এমন ঘুষ দাবি করেছেন।
২০ জুন (শুক্রবার) ফেনী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারি পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মোট ১১৫টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১২ হাজার। প্রতিটি পদের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন গড়ে ১০৮ জন।
ঠিক এই নিয়োগকে কেন্দ্র করেই নাহিদ রাব্বি নামের এক যুবক লিখিত পরীক্ষার আগেই ৪ লাখ টাকা অগ্রিম চেয়েছেন, এবং বাকিটা পরীক্ষার পর দেওয়ার শর্তে চুক্তির আশ্বাস দিয়েছেন—এমন কথা শোনা গেছে ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডিংয়ে।
অডিওতে রাব্বিকে বলতে শোনা যায়—“১০ লাখ টাকার এক পয়সাও কম হবে না।” চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পর টাকা পরিশোধের প্রস্তাবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন—“বাংলাদেশে এসব চলে না, অগ্রিম টাকা না দিলে কিছুই হবে না।”
নাহিদ রাব্বির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জানা গেছে, গত আগস্ট থেকে তাকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সভা ও সরকারি অনুষ্ঠানে অতিথির আসনে দেখা গেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সঙ্গে।
এছাড়াও, বৈছা ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও তাকে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে, যা তার প্রভাব-প্রতিপত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
এ বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে, নাহিদ রাব্বি দাবি করেন, “আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মাধ্যমে ভুয়া অডিও তৈরি করে ফেসবুকের বিভিন্ন ফেক পেজে ছড়ানো হয়েছে। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি, তাই কোনো অপশক্তি হয়তো তা সহ্য করতে পারছে না।”
তবে এখনও তার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রযুক্তিগত প্রমাণ গণমাধ্যমে আসেনি।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “ঘুষ দাবির বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো—বাংলাদেশে নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে দুর্নীতি ও ঘুষ কিভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। একদিকে ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি চাকরিপ্রার্থীদের নিকট থেকে অর্থ দাবি করছেন, অন্যদিকে প্রশাসনের অংশ হয়ে তিনি সরকারি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছেন।এই দ্বিমুখী চরিত্রের নেতার উপস্থিতি শুধু প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নয়, বরং ছাত্র রাজনীতির নৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
