
বাংলাদেশে মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনির ঘটনা ভয়াবহ হারে বাড়ছে। বিচারহীনতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সামাজিক অবক্ষয় এর পেছনে মূল কারণ।
অনলাইন ডেক্সঃ মুক্তিবার্তা৭১
🩸 গণপিটুনি: ন্যায়বিচারের নামে উন্মত্ত প্রতিশোধ?
বাংলাদেশে মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ছোটখাটো অপরাধ, সন্দেহ বা গুজবের ভিত্তিতে উত্তেজিত জনতা মুহূর্তেই আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। অনেক সময় নিষ্পাপ নাগরিকরাও এর শিকার হচ্ছেন, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতির ভয়ঙ্কর প্রতিফলন।
সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, কোনো ধরনের যাচাই ছাড়াই জনতা মিলে এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে, মারধর করে এবং কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটনার পর আসামির পরিচয়, উদ্দেশ্য কিংবা অপরাধ প্রমাণিত হয় না, অথচ মানুষটির জীবন শেষ হয়ে যায়।
⚖️ বিচারব্যবস্থায় অনাস্থা, নাকি সামাজিক নৈতিকতার অবক্ষয়?
বিশ্লেষকরা বলছেন, মব সন্ত্রাস শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, এটি একটি গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট। বিচারব্যবস্থার ধীরগতি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ততা—সব মিলে জনগণের মধ্যে এক ধরনের “সরাসরি প্রতিশোধ” নেওয়ার প্রবণতা তৈরি করেছে।
এটা ঠিক যে অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ স্বাভাবিক, কিন্তু বিচার না করে প্রকাশ্য রাস্তায় কারও জীবন কেড়ে নেওয়া কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
📉 সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান: ভয়াবহ বাস্তবতা
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫টির বেশি মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনা ঘটার পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, আর অনেক সময় অজ্ঞাতপরিচয় জনতা হিসেবে দায়ীদের চিহ্নিত করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
🚨 প্রশাসনের ব্যর্থতা, রাজনৈতিক নির্লিপ্ততা
অনেক সময় এই সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদ থাকার অভিযোগ ওঠে। প্রশাসনও অনেক ক্ষেত্রে গুজব দমনে ব্যর্থ, ফলে মোবাইল ও ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব ছড়ায়, এবং জনতা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
🧠 সমাজ মনোবিজ্ঞানীদের উদ্বেগ: “মানুষ হিংস্রতা ও বিচার এক করে ফেলছে”
সমাজবিজ্ঞানী ড. সালেহা হক বলছেন—
“যেখানে রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো ভেঙে পড়ে, সেখানেই জনতা নিজেদের বিচারক ভাবতে শুরু করে। এটি গণতন্ত্র নয়, এটি ভয়ঙ্কর নৈরাজ্য।”
