৮৮ জন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা সরকারকে অবিলম্বে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
অনলাইন ডেক্সঃ মুক্তিবার্তা৭১
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর ক্রমবর্ধমান নিপীড়ন এবং বাকস্বাধীনতার সংকোচনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ৮৮ জন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক, মানবাধিকারকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মী। এক যুক্ত বিবৃতিতে তাঁরা এই পরিস্থিতিকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
📉 দমন-পীড়নের চিত্র:
বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সময়কালে:
- ৪১২ জন সাংবাদিক হয়রানি, হুমকি ও মামলার শিকার
- ৩৯ জন সাংবাদিক গ্রেপ্তার
- ১৬৮ জনের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল
- ১০১ জনকে প্রেস ক্লাব থেকে বাদ দেওয়া
- সাংবাদিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ
- নির্বাচনী প্রতিবাদে ১০ জন সাংবাদিক নিহত এবং বহু আহত
এই দমনমূলক পদক্ষেপের ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়, নিপীড়ন ও নির্বাসনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রবাসে নির্বাসিত সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়ছে, আর দেশে থাকা সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
🧿 ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ:
বিবৃতিতে বলা হয়, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাকাঠামো এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস উইং এই দমন-পীড়নের নেপথ্যে রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণরূপে দমন করা হচ্ছে।
🗨️ বিবৃতির মূল বক্তব্য:
“এটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের গণমাধ্যমের জন্যই নয়, বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আদর্শের বিরুদ্ধেও ভয়ানক বার্তা। বাকস্বাধীনতার ওপর এই ধরনের আক্রমণ গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে ধ্বংস করে।”
স্বাক্ষরকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এভাবে চললে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণমাধ্যম পুরোপুরি নির্বাক ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে।
🖋️ স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন:
শওগাত আলী সাগর, ড. ইউনূস চৌধুরী, সুজাত বংশী, নসীম বেগম, রায়হান শরীফ, ফাতেমা হাসান, হাসানআল আবদুল্লাহ, সজল মাহবুব, রুকাইয়া জুহুরা, মিনহাজ কাদের, ক্লারিসা মাজারিওসহ আরও ৮৮ জন। এদের মধ্যে অনেকেই প্রখ্যাত সাংবাদিক, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সাবেক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
🌍 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা:
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তাঁরা সরকারকে সতর্ক করে বলেন,
“যদি অবিলম্বে নির্যাতন বন্ধ না করা হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে উঠবে।”
সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা হলে রাষ্ট্র নিজেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই বিবৃতি শুধু প্রতিবাদ নয়—এটি একটি জরুরি সতর্কবার্তা।
সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেওয়া, দমন নয়।
