ইআবা নেতা সৈয়দ ফয়জুল করিম আফগানিস্তানের মতো বাংলাদেশে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা এটিকে সাংবিধানিক আদর্শের ওপর হুমকি হিসেবে দেখছেন।
অনলাইন ডেক্সঃ মুক্তিবার্তা৭১
বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইআবা) দলের শীর্ষ নেতা সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম সম্প্রতি এক আলোচিত বক্তব্যে আফগানিস্তানের মতো বাংলাদেশেও শরিয়া আইন প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীর পল্টনে এক জনসভায় দেওয়া ওই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
কী বলেছেন ফয়জুল করিম?
“আল্লাহর হুকুম ছাড়া এই দেশে শান্তি আসবে না। আফগান ভাইরা যেমন তালেবান শাসনের মাধ্যমে শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা করেছে, আমরাও সে পথেই যাব।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তালেবান শাসনের আদলে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামোর পক্ষ নেন, যা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সংবিধানের সম্পূর্ণ বিপরীত।
সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে।
ফয়জুল করিমের এই বক্তব্য সংবিধানবিরোধী এবং উগ্রবাদী রাজনৈতিক কার্যকলাপের ইঙ্গিত বহন করে।
“একজন রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে তালেবান মডেলকে অনুসরণ করার দাবি জাতির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।” – বলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. এনামুল হক।
কারা এই বক্তব্যকে সমর্থন বা বিরোধিতা করছে?
- সমর্থনকারীরা দাবি করছেন, “ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।”
- বিরোধীরা বলছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারকে চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি:
বাংলাদেশে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার এমন আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, এটি তালেবানপন্থী আদর্শকে উৎসাহিত করার একটি চেষ্টা, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
সৈয়দ ফয়জুল করিমের এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে একটি হুমকি।
দেশবাসীর উচিত এই ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সজাগ, সচেতন এবং প্রতিরোধমূলক মনোভাব রাখা।
