হলি আর্টিজান হামলা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী। আইএস দায় স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেছেন এটি আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত নাটক। নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার ঘিরে নতুন উদ্বেগ।
অনলাইন ডেক্সঃ মুক্তিবার্তা৭১
🧨 হলি আর্টিজান হামলা: নাটক না বাস্তব জঙ্গি হামলা?
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশান এলাকার হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলা আজও ইতিহাসের অন্যতম বিভীষিকাময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ওই ঘটনায় ২০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ১৭ জনই ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
সেই ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (IS), এবং পরবর্তীতে সরকারও ঘটনাটিকে জঙ্গি হামলা হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাপক প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসদমন কার্যক্রম শুরু করে।
🚨 কিন্তু এবার বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার
সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী দাবি করেছেন—
“হলি আর্টিজান হামলা ছিল একটি সাজানো নাটক। এটি একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত ছিল, যেখানে মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন,
“সেই সময়ের সরকার (আওয়ামী লীগ) নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এই নাটক সাজায়।”
🛑 স্মরণ অনুষ্ঠান বন্ধ, হিযবুত তাহরীর পোস্টার ঘিরে নতুন আতঙ্ক
এছাড়া জানা গেছে, হোলি আর্টিজানের স্মৃতিতে প্রতি বছরের পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি ২০২৩ সালের পর থেকে স্থগিত রয়েছে। এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতো কড়া নয়।
সম্প্রতি গুলশান ২ নম্বর সড়কের কাছাকাছি এলাকায় দেখা গেছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর-এর প্রচার পোস্টার। যা নতুন করে জঙ্গি তৎপরতা ও পুনর্গঠনের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
🔍 বিশ্লেষণ: সত্য, মিথ্যা না চক্রান্ত?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,
- আইএস-এর দায় স্বীকার,
- হামলাকারীদের পরিচিতি,
- বিদেশি নাগরিকদের হতাহতের প্রমাণ
এসব কিছুই ঘটনাটিকে নিঃসন্দেহে জঙ্গি হামলা হিসেবে প্রমাণ করে।
কিন্তু সাজ্জাত আলীর মন্তব্যে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি—
একটি উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার এমন বক্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও গোয়েন্দা বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
📣 জনমনে উদ্বেগ
সাধারণ নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী:
“যদি এটাই নাটক হয়, তবে সেই নাটকের পেছনের চিত্রনাট্যকার কে? এতগুলো বিদেশি নাগরিক মারা গেল, রাষ্ট্র কেন তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে না?”
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন,
“এই মন্তব্য শুধু বিপজ্জনকই নয়, এটি আইএস বা অন্য উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থানে সুযোগ করে দিতে পারে।”
২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলা নিয়ে বিতর্ক এখন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা দু'দিক থেকেই গভীর হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য যদি সত্যি হয়, তবে সেটি একটি গভীর তদন্তের দাবি রাখে। আর যদি এটি অনুমানভিত্তিক হয়, তবে সেটিও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
জবাব দেবে কে? সরকার, পুলিশ, না আদালত?
