সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মাসুদ কামাল তার ইউটিউব জরিপে বলেছেন, ৭১% ভোটার আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন না। তিনি বলেন, এ আস্থাহীনতা সরকার ও নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য এক ভয়াবহ বার্তা।
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের উদ্বেগ ও অনাগ্রহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ হাজির করেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। ৮ জুলাই, মঙ্গলবার রাতে তার ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’-তে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নেই, তাই অধিকাংশ ভোটারই ভোট দিতে যেতে চান না।”
এই বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, দেশের ৭১% ভোটার আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন না বলে মত দিয়েছেন মাসুদ কামালের পরিচালিত একটি ইউটিউব ভিত্তিক জরিপে।
যদিও এটি আনুষ্ঠানিক বা পেশাদার জরিপ নয়, তথাপি এটি একটি মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতামতের প্রতিফলন হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে।
“এটা কোনো একাডেমিক জরিপ নয়, তবে যারা এই জরিপে অংশ নিয়েছেন, তারা কোনো প্রকার ভয় বা প্রভাব ছাড়াই অংশ নিয়েছেন,” বলেন মাসুদ কামাল।
তিনি আরও যুক্ত করেন, “এই ফলাফল নির্বাচন আয়োজকদের জন্য এলার্মিং।
কারণ, ভোটদানে আগ্রহহীনতা শুধুই রাজনৈতিক উদাসীনতা নয়—এটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি এক প্রকার অনাস্থার প্রতিফলন।”
মাসুদ কামাল বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন কয়েকটি মূল কারণ:
- আস্থা সংকট: “ভোট যেভাবে হচ্ছে, তাতে জনগণের আস্থা নেই।”
- প্রতিদ্বন্দ্বিতা সংকট: “অনেকে হয়তো আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো শক্তিশালী প্রার্থী পাচ্ছেন না।”
- বিকল্পের অভাব: “অনেকে মনে করেন, আমার মতের প্রতিনিধি খুঁজে পাচ্ছি না, তাই ভোট দিচ্ছি না।”
- নিরাপত্তা শঙ্কা ও সামাজিক নিস্ক্রিয়তা: ভোটদান নিয়ে শঙ্কা বা নিরুৎসাহিত করার সামাজিক মানসিকতা।
মাসুদ কামালের মতে,
এমন একটি পটভূমিতে ‘ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন’ আয়োজনের যে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, তা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে।
তিনি বলেন, “যে নির্বাচনে ৭১% মানুষ অংশ নিতেই চায় না, সেটি কীভাবে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন হয়?”
এই প্রশ্ন সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়ের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ এবং প্রশ্নবোধক সংকেত।
ভোটের সংখ্যা নয়, অংশগ্রহণকারীদের বৈচিত্র্য, প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক পরিসরের মুক্ততা ও জনগণের বিশ্বাসই একটি নির্বাচনের গুণগত মান নির্ধারণ করে।
এই পর্যায়ে এসে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন আয়োজনের আগে এই আস্থা পুনর্গঠন করাই হতে পারে সরকারের প্রধান কর্তব্য।
মাসুদ কামালের এই জরিপ ইউটিউব-ভিত্তিক। অনেকেই হয়তো বলবেন, এটি শুধুই ‘ডিজিটাল আওয়াজ’। তবে যেহেতু এটি উন্মুক্ত ছিল, এবং কোনো পক্ষকে এতে বাধা দেওয়া হয়নি, তাই এটি জনমনের এক খণ্ডচিত্র হিসেবেই ধরা যায়।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর।
মাসুদ কামালের বক্তব্য, ইউটিউব জরিপ ও বিশ্লেষণ – সব মিলিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক ভবিষ্যৎ সংকেত।
ভোটাররা কেন ভোট দিতে চাচ্ছেন না, সেই প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে শুধু ভোটের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করলে তা হবে এক ধরনের ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল সার্কাস’।
