ড. ইউনুস ত্রিপুরায় ৩০০ কেজি আম পাঠালেন ‘সীমান্ত মৈত্রী’র নামে। দেশে চলমান মব-জঙ্গি সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদী শাসনের মধ্যে এমন উপহার নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
সীমান্তের ওপারে আম, ভেতরে ক্ষোভ—’মব কূটনীতি’ নাকি ‘রাষ্ট্রীয় বিচ্যুতি’?
যখন দেশে মব সন্ত্রাস, জঙ্গি হামলা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগে উত্তাল বাংলাদেশ, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের ত্রিপুরায় ‘উপহার’ হিসেবে ৩০০ কেজি আম পাঠিয়েছেন মব সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই আম পাঠানো হয়েছে ‘সীমান্ত মৈত্রী ও আঞ্চলিক বন্ধুত্ব জোরদার’ করার নামে।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন রাষ্ট্রীয় বাস্তবতা থেকে বিচ্যুতি ও অভ্যন্তরীণ সংকট আড়াল করার এক কৌশল হিসেবে।
রাজনৈতিক বার্তা কি লুকানো?
ত্রিপুরা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের একটি কৌশলগত রাজ্য।
সীমান্তজুড়ে নজরদারি, বাংলাদেশ-বিরোধী কিছু গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং সম্প্রতি ত্রিপুরায় কয়েকটি বাংলাদেশবিরোধী বৈঠক এই আম প্রেরণকে নিয়ে তৈরি করেছে বিতর্ক।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আম কূটনীতি একদিকে যেমন ভারতের রাজনৈতিক মহলের মন জয় করার চেষ্টা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন ঢাকার এক রাজনৈতিক ‘ডাইভারশন’।
মব কালচার, ফ্যাসিবাদ—এবং ‘গিফট পলিটিক্স’
যখন দেশে চলছে সাংবাদিক নিপীড়ন, ছাত্রদের গ্রেফতার, বিরোধী রাজনীতিকদের ওপর হামলা এবং রাজপথে রক্তপাত, তখন জনগণের টাকায় ৩০০ কেজি আম বিদেশে পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল।
একজন সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন—
“দেশের মানুষ যখন আমের দাম নিয়েই হিমশিম খায়, তখন এই উপহারের পেছনে যে রাজনৈতিক লেনদেন লুকিয়ে আছে, তা স্পষ্ট।”
জনগণের চোখে: উন্নয়ন নয়, প্রহসন!
বিরোধীরা এটিকে বলছে ‘মব গর্ভমেন্টের ফল-নীতি’। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— ত্রিপুরায় আম গেলে দেশে শান্তি আসবে? নাকি মবসন্ত্রাস আরও বাড়বে?
সরকারি ব্যয়, জবাবদিহির অভাব, মিথ্যা কূটনৈতিক হাসি—এসবের মাঝে জনগণ চায় বাস্তব পরিবর্তন।
