মিথ্যা মামলায় রাজবন্দী ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রাতুল। ছেলেকে মুক্ত করতে গিয়ে ক্লান্ত এক মা বাসস্ট্যান্ডে ঘুমিয়ে পড়েন। আজও ‘মব-রাজনীতি’র নির্মম শিকার আওয়ামী পরিবার।
❝আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলে নিজের ক্ষতি, আর না করলে দেশের ক্ষতি❞—এমনই এক শ্লোগান আজ বাস্তবতার রূপ নিয়েছে। ছেলে জেলে, মা স্ট্যান্ডে। রাজবন্দী হিসেবে আটক থাকা ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রাতুলের মা বাসস্ট্যান্ডে ঘুমিয়ে আছেন ক্লান্ত-হতাশ হয়ে। ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এমবিএ পরীক্ষা দিতে গিয়ে ‘মব’ দ্বারা আক্রমণের শিকার হন তিনি। এরপর তাঁকে আটক করা হয় মিথ্যা রাজনৈতিক হত্যা মামলায়। আজও তিনি মুক্ত নন।
রাতুল ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মনিরামপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য।
তাঁর গ্রেফতারের পর থেকে তাঁর মা প্রতিদিন ২০০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ছুটে আসেন।
একের পর এক আদালতের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে ছেলের মুক্তির আকুতি জানান—কিন্তু চার দেয়ালের বাইরে আনতে পারেননি।
এ এক নির্মম রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতার প্রতিচ্ছবি, যা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কল্পনা করা যায় না। এই মায়ের ঘুমিয়ে পড়া কেবল ক্লান্তি নয়—এ এক দেশব্যাপী মানবিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার চিত্র।
বিশ্লেষণ: রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
এই ছবি আমাদের শুধু কাঁদায় না, প্রশ্ন তোলে—
- রাষ্ট্র কি আজ এতটাই অনুভূতিহীন?
- ছাত্র রাজনীতি কি এখন অপরাধে পরিণত হয়েছে?
- গণতন্ত্রের নামে কি চলছে রাজনৈতিক প্রতিশোধ?
রাতুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা আদালত প্রমাণ না করলেও তাঁকে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে।
এই বিষয়টি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়ানক নিদর্শন।
রাজনীতি, পরিবার ও প্রতিরোধ
এই ছবি প্রমাণ করে—রাজনৈতিক শিকারে পরিণত হচ্ছে পরিবার, ঘর, মা। রাতুলের মায়ের মতো হাজারো মা আজ মুখ বুজে সহ্য করছেন।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই মা’র ঋণ কি আওয়ামী লীগ ভুলে যাবে?
নাকি ইতিহাস মনে রাখবে এই শাসনকালেই মায়ের কাঁধে চেপে বসেছিল রাষ্ট্রীয় নির্যাতন?
