একদিকে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত চারজন, অন্যদিকে সীমান্তে আরাকান আর্মির হাতে ২১ জেলে অপহৃত। রাষ্ট্রযন্ত্রের এই দ্বৈত রূপ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন: আদৌ কি নিরাপদ বাংলাদেশ?
একদিকে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ৪ জন, অন্যদিকে একই সময়ে বঙ্গোপসাগরের মেরুল্ল্যা এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি কর্তৃক ৩টি ট্রলার ও ২১ জেলে অপহরণ। দুইটি ঘটনা একই দিনে ঘটায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গা-ছাড়া চিত্র আবারও উন্মোচিত হলো।
গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গুলি
গোপালগঞ্জে জাতির জনকের সমাধি রক্ষায় সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ চলছিল। এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালে সেনাবাহিনী নিরস্ত্র নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
নিহত হন:
- দীপ্ত সাহা
- রমজান কাজী
- সোহেল মোল্লা
- ইমন তালুকদার
আরও আহত হন শতাধিক। এ সময় সেনাবাহিনী APC ব্যবহার করে এনসিপির নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
সীমান্তে জেলেদের অপহরণ
গোপালগঞ্জের সহিংসতা যখন জাতীয় মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু, তখন দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে আরাকান আর্মি অনুপ্রবেশ করে সেন্টমার্টিনের কাছ থেকে ৩টি ট্রলার ও ২১ জেলেকে অপহরণ করে।
মেরুল্ল্যা খালের পাশে মাছ ধরে ঘাটে ফেরার পথে এই অপহরণ ঘটে। জেলেরা জানান,
“ট্রলার লক্ষ্য করে অস্ত্র উঁচিয়ে তারা এগিয়ে আসে। ট্রলার থামিয়ে সবাইকে নিয়ে যায়।”
মালিক সমিতির পরিচালক সাজেদ আহমেদ বলেন,
“বারবার এমন ঘটছে। আমরা আতঙ্কে আছি, মাছ ধরা বন্ধ রাখছি।”
২০২৫ সালের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আরাকান আর্মি অপহরণ করেছে ২৩০ জন জেলেকে। এদের অনেককে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে।
“এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়”—মৎস্যজীবীদের দাবি।
রাষ্ট্রযন্ত্রের দ্বৈত চিত্র
এই দুইটি সমসাময়িক ঘটনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার গভীর সংকট তুলে ধরেছে:
- ভিতরে সেনাবাহিনীর গুলি
- বাইরে শত্রুদের অনুপ্রবেশ ও অপহরণ
এ যেন এক ভয়াবহ দ্বৈত বাস্তবতা, যেখানে নাগরিকরা কোনোদিকেই নিরাপদ নন।
প্রশ্ন: রাষ্ট্র কি ব্যর্থ?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রাষ্ট্র কি তার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে?
- সেনাবাহিনী যখন রাজপথে রাজনৈতিক পক্ষ রক্ষায় ব্যস্ত,
- তখন সীমানায় অনুপ্রবেশ ঘটছে, মানুষ অপহৃত হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রশ্ন তোলা সময়ের দাবি:
“নিরাপত্তার নামে রাষ্ট্র কী করছে? জনগণের বিরুদ্ধে গুলি চালাচ্ছে, আর সীমান্ত ছেড়ে দিচ্ছে শত্রুর হাতে?”
