জামায়াত ইসলামীর নেতা মুফতী আমীর হামজার সাম্প্রতিক বক্তব্যে উগ্রবাদ ও পাকিস্তানি ভাবধারার ছাপ স্পষ্ট। ধর্মের নামে রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানি কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?
জামায়াত ইসলামীর চিহ্নিত মুখ, পাকিস্তানি মতাদর্শে উজ্জীবিত কথিত ধর্ম প্রচারক মুফতী আমীর হামজা ফের আলোচনায়। সাম্প্রতিক এক বয়ানে তিনি যে ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা শুধু উদ্বেগজনক নয়—বরং ভবিষ্যতের ভয়াবহ বিপদের পূর্বাভাস।
কী বলেছেন মুফতী হামজা?
সাম্প্রতিক এক ধর্মীয় মাহফিলে তিনি বলেন—
“এই রাষ্ট্র আমাদের না, এই আইন মানি না। ইসলামি শাসনই একমাত্র পথ। যারা বিরোধিতা করবে, তারা কাফের।”
এমন বক্তব্য শুধু সংবিধানবিরোধী নয়, বরং দেশের শান্তিপ্রিয় মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করে ধর্মীয় উগ্রতা ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে পাকিস্তানি শাসনের সময়কার বৈষম্যকামী চিন্তা, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ধর্মের নামে উগ্রতা: জামায়াতের পুরনো খেলা
মুফতী হামজা সরাসরি জামায়াত ইসলামীর মদদপুষ্ট। এ গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে।
তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট:
- ধর্মের আড়ালে রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি
- পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা
- তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করে জঙ্গিবাদে টেনে আনা
জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি?
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে সিরিয়া-আফগানিস্তানের মত জঙ্গি উত্থানের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
একজন “ধর্ম প্রচারক” এর মুখে যখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘৃণা, তখন সেটি নিছক ধর্মীয় মতামত নয়—বরং একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ।
কারা দিচ্ছে আশ্রয়?
প্রশ্ন উঠছে—এই হামজা কাদের ছত্রছায়ায় এতটা সাহস পাচ্ছেন?
- গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, জামায়াতের এই প্রচারকদের পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও অর্থায়ন।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় তাদের ভিডিও, উস্কানিমূলক বার্তা—যা তরুণদের বিভ্রান্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে “রাষ্ট্র অস্বীকারকারী” কেউ যদি প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে পারে, সেটি শুধুই অবাধ্যতা নয়— রাষ্ট্রদ্রোহ।
রাষ্ট্র, গোয়েন্দা সংস্থা ও ধর্মীয় শান্তিপ্রিয় নেতাদের এখনই সক্রিয় হতে হবে।
মুফতী আমীর হামজা ও তার মত মতাদর্শের মানুষজন ধর্মের আড়ালে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেশে অশান্তি ও বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
তাদের বিষয়ে সময় থাকতে সতর্ক না হলে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হবে সুদূরপ্রসারী বিপদের সম্মুখীন।
এখনই দরকার—
- কঠোর নজরদারি
- বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
- ধর্মীয় মঞ্চে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ।
