সারাদেশে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর ডাকা হরতাল পালিত হচ্ছে। কোথাও শান্তিপূর্ণ, কোথাও সহিংসতার আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন। জনদুর্ভোগ ও যান চলাচলে প্রভাব স্পষ্ট।
নিজস্ব প্রতিবেদক | মক্তিবার্তা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ডাকে সারাদেশজুড়ে হরতাল পালিত হচ্ছে। হরতালের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় বন্ধ রয়েছে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন চলাচলও কম।
হরতালের পেছনের কারণ
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর চলমান গণগ্রেপ্তার, গোপালগঞ্জে সেনা ও পুলিশি অভিযান।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক দমননীতির প্রতিবাদেই এই হরতাল ডাকা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন এ কর্মসূচির পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তাদের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মিছিল করতে দেখা গেছে।
কোথাও উত্তেজনা, কোথাও নিস্তব্ধতা
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় হরতাল শান্তিপূর্ণ হলেও কয়েকটি স্পর্শকাতর জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, এবং সিলেটের কিছু এলাকায় হরতাল চলাকালে মিছিল ঠেকাতে পুলিশ বেগ পায় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত নিয়ন্ত্রিত হলেও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জনদুর্ভোগ ও ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি
হরতালের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক দিনের হরতালেও অর্থনীতিতে বিপুল ক্ষতি হয়, যা পণ্য পরিবহন, শ্রমঘণ্টা, ও পণ্যমূল্যের উপর প্রভাব ফেলে।
প্রশাসনের অবস্থান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং হরতাল চলাকালে কোনো প্রকার সহিংসতা বা ভাঙচুর সহ্য করা হবে না।
ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের দপ্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর ডাকা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে কিনা, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।
তবে এটা স্পষ্ট, দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে গঠিত ‘অঘোষিত প্রতিরোধ আন্দোলন’ রূপ নিচ্ছে।
জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, আর রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের স্বার্থে জনজীবন বিপন্ন করে তোলে—তবে তা গণআন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে গড়াতে পারে।
