একজন মৃত মুসলমানের কবর তুলে ফেলার প্রতিবাদে সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণহানি, কারফিউ, গোপন নির্যাতন—এই ঘটনায় জাতি কেন সরাসরি সেনাবাহিনীকে দায়ী করছে, বিশ্লেষণ করলেন আমাদের প্রতিবেদক।
দেশের এক গুরুত্তপূর্ন অঞ্চলে ঘোষণাদানকারী চরমপন্থী বাহিনী একজন মৃত মুসলমানের কবর তুলে ফেলতে গেলে স্থানীয় জনগণ প্রতিরোধ করে। সেই প্রতিরোধের জবাবে গুলিচালনা করে সেনাবাহিনী। প্রাণ হারান কয়েকজন নিরস্ত্র প্রতিবাদকারী। এরপরে শুরু হয় কারফিউ, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, এবং নির্যাতন। সেনাবাহিনীর এই “গোপন অভিযান” যেন পরিণত হয়েছে একটি উন্মুক্ত রাষ্ট্রীয় আত্মঘাতে।
পোস্ট মর্টেম ছাড়াই নিহতদের দাফন করা হয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে।
দেশের অন্যতম প্রতিরক্ষা বাহিনী এমন কাজ করলে, সেটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়—পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট হয়।
গোপনীয়তা কখনোই রাষ্ট্রীয় অপরাধ ঢাকার ঢাল হতে পারে না।
ইতিহাসে দেখা গেছে—চিলি, মিশর কিংবা পাকিস্তানে গোপন দমনপীড়নের পরিণাম হয় ভয়াবহ।
মজার বিষয় হলো, জনগণ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করছে না তথাকথিত অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারকে—দায়ী করছে সরাসরি সেনাবাহিনীকে।
“ইউনিফর্ম মানেই আইন নয়, বরং আইনসিদ্ধতার প্রতীক। যদি ইউনিফর্ম পরে কেউ বেআইনি কাজ করে, সেটা রাষ্ট্রবিরোধিতা।” —এমনই প্রতিক্রিয়া আসছে নাগরিকদের মুখে।
বর্তমান বাস্তবতায় দেশ যে ঘোর সংকটের দিকে যাচ্ছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই—
- পোশাকশিল্পে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছে
- দ্রব্যমূল্য লাগামহীন হারে বাড়ছে
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোপন চুক্তির খবর ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে
- বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়ছেন
এই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হলে, দেশ শুধু সামরিক নয়—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের দিকে যাবে।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ও দাঙ্গার সময় সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় থেকেছিল, যা ইতোমধ্যে জনগণের মনে এক গভীর ক্ষতের জন্ম দিয়েছে। এই “নিষ্ক্রিয়তা” এবং “অবশেষে অতিসক্রিয়তা”—এই দুই বিপরীত কর্মপন্থা মানুষের চোখে সন্দেহ ও ঘৃণার মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সেনাবাহিনী ভুলে গেলে চলবে না—ইউনিফর্ম মানে কেবল পদ নয়, প্রতীক। একজন সদস্যের বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায় যায় পুরো বাহিনীর ওপর। এটা শুধু জনমনস্তত্ত্ব নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সরল সত্য।
প্রশাসনের মগজ যদি এখনো সচল থাকে, তবে তাদের উচিত—
- ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ঘোষণা
- জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা
- আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান
গোপনীয়তা নয়, স্বচ্ছতাই হতে পারে সেনাবাহিনীর রক্ষাকবচ। নয়তো, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বাহিনী পরিণত হবে সবচেয়ে বড় অনাস্থার প্রতীকে।
