গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর সক্রিয় অবস্থান এবং ইউনুস সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতা ইঙ্গিত দিচ্ছে দ্বিতীয় ধুরন্ধরী বিপ্লবের সূচনা। বিশ্লেষণ করলেন আমাদের প্রতিবেদক।
গোপালগঞ্জে এপিসির গর্জন যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘোষণা করল। ২০২৪ সালের মার্কিন ‘রঙিন বিপ্লব’ ব্যর্থ হলেও তার রেশ আজও দৃশ্যমান। সেই সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল শান্তির দূত সেজে রাস্তায় দাঁড়ানো জনগণের পাশে থাকা। কিন্তু ২০২৫ সালে গোপালগঞ্জে যে এপিসি মাঠে নামে, তার রঙ আর মেজাজ—দুটোই যুদ্ধের বার্তা দেয়। এটি আর কৌশলী নিরপেক্ষতা নয়; এটি ছিল এক সুপরিকল্পিত বার্তা: “ওয়েলকাম টু বাংলাদেশ – ৩”।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পূর্ব মুহূর্তে জুনিয়র সেনা কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন তৎকালীন ডেপুটি চিফ জিয়াউর রহমানের কাছে।
জিয়ার উত্তর ছিল রাজনৈতিক ভাষায় নয়, ছিল সামরিক ছলনায় পূর্ণ: “তোমরা যা করতে চাও করো, আমাদের জড়িও না।”
এটি ছিল সেই ‘অবিচারমূলক নিরপেক্ষতা’, যার পেছনে লুকিয়ে ছিল অন্যের বন্দুক ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সুদূরপ্রসারী নীলনকশা।
আজ যেন সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটছে ভিন্ন ক্যানভাসে, ভিন্ন পোশাকে—তবে লক্ষ্য এক: ক্ষমতা পুনঃবণ্টন।
গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা, ১৪৪ ধারা জারি, সেনাবাহিনীর অবস্থান এবং এপিসির ব্যবহার—সবকিছু মিলে এটা ছিল শুধুই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়; বরং একটি বৈধতা হীন সরকারের পতনের আগে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত মঞ্চ প্রস্তুত করা।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, সেনাবাহিনী কি ইউনুস সরকারের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে? নাকি এটা মোল্লা-মিলিটারি অ্যালায়েন্সের পূর্বনির্ধারিত স্ক্রিপ্ট?
যে বিএনপি একসময় ওয়েস্টার্ন ডিপ স্টেটের মূল সমর্থক ছিল, সেই বিএনপি আজ নৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে ভগ্ন। তারেক রহমানের ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট’ নামেই পরিচিত নেতাকর্মীরা আজ নেতৃত্ব শূন্য।জামাত কিংবা নবজাত এনসিপিও আশানুরূপ গণভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইউনুস সরকারের প্রতি পশ্চিমা মিডিয়া ও এনজিও ব্লকের অতিরিক্ত অনুরাগ এখন উল্টো এক ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ গোপালগঞ্জের ঘটনাই তাদের “নৈতিক ম্যান্ডেট” কে ধ্বংস করেছে।
সাম্প্রতিক একাধিক মিডিয়া হাউস ও গবেষণা সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
জনগণ হয়তো আর গণআন্দোলনের দিকে ঝুঁকছে না, বরং স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছে।এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে যতই পরিকল্পনা থাকুক না কেন, মাঠের বাস্তবতা বলছে, নির্বাচন এখন অপ্রাসঙ্গিক। কারণ লক্ষ্য নির্বাচন নয়, বরং ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইউনুস সরকার বিদায় নেয় (বা নেয়া হয়), তবে ক্ষমতা যাবে না বিএনপি বা জামাতের হাতে।
বরং দৃশ্যপটে দেখা দেবে এক নতুন শক্তি: মোল্লা-মিলিটারি অ্যালায়েন্সের সুপ্রিম কাউন্সিল, যাদের মূল পরিকল্পনা একটি শরিয়া নির্ভর “বাংলাদেশ – ৩” গঠন।
তাদের মতে,
আওয়ামী লীগ ছিল মার্কিন ডিপ স্টেটের বাধা। ইউনুস সরকার ছিল তাদের “ট্রানজিশন টুল”। এখন সময় হয়েছে মূল প্রজেক্ট বাস্তবায়নের।
১৯৭৫ সালের চক্রান্তে যেমন জিয়াউর রহমান ‘নিরপেক্ষ’ থেকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই গোপালগঞ্জে সাদা নয়, যুদ্ধের রঙে রাঙানো এপিসি যেন আবার এক ধূর্ত শুরুর বার্তা দিচ্ছে।
এটা যদি সত্যিই দ্বিতীয় ধুরন্ধরী বিপ্লব হয়, তবে সেটা হবে আরও বেশি কৌশলী, আরও বেশি বুদ্ধিদীপ্ত এবং একেবারে গোপন বুলেটের মতো নিঃশব্দ।
ওয়েলকাম টু বাংলাদেশ – ৩।
