উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থী হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ। তার বিবৃতি শুধু শোক নয়, রাষ্ট্রের জবাবদিহিতার প্রশ্নও তোলে।
উত্তরা’র মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষ যেমন শোকাহত, তেমনি জাতীয় নেতৃত্বপর্যায় থেকেও উঠে এসেছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
এই প্রেক্ষাপটেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিবৃতি দেশের নাগরিক অনুভূতির প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
সজীব ওয়াজেদ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে বলেন,
“উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে যেভাবে নিষ্পাপ শিক্ষার্থীদের প্রাণ চলে গেল, আহত হলো অনেক, যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল— আমি বাকরুদ্ধ।”
সজীব ওয়াজেদের স্ট্যাটমেন্টটি শুধু ব্যক্তিগত আবেগ বা শোকপ্রকাশ ছিল না,
বরং এর ভেতর দিয়ে ফুটে উঠেছে একটি রাষ্ট্রের তরফ থেকে দায়িত্বশীলতার দাবি।
তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনার কারণ কী, কেন এমন হলো—তা সবার জানা দরকার।
শুধু রিপোর্ট তৈরি করে শেষ করা চলবে না। আমরা চাই সত্যটা বেরিয়ে আসুক, এবং যেন এমন ভয়াবহতা আর কোনো দিন না দেখি।”
এই বক্তব্যটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সামরিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা, এবং জনবহুল এলাকায় যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনার দরজা খুলে দেয়।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তোলে—দেশে বেসামরিক নিরাপত্তা কতোটা সুরক্ষিত? কেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপরে সামরিক যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে?
এসব প্রশ্নের জবাব শুধু তদন্ত প্রতিবেদন নয়, বরং নীতিগত পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে।
সজীব ওয়াজেদের বিবৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—‘শুধু তদন্ত নয়, সত্য উদঘাটন ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা জরুরি।’ তাঁর কথায় প্রতীয়মান হয়, মানুষ শুধু সহানুভূতির নয়, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের প্রত্যাশাও করছে।
তিনি বলেন, “এই শোক শুধু আপনাদের না, এটা আমাদের সবার।
আমরা একসাথে কাঁদছি —ন্যায়, নিরাপত্তা আর মানুষ হিসেবেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে।”
এই বার্তাটি রাষ্ট্র, সামরিক বাহিনী এবং জনসাধারণের সম্পর্ককে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার এক উপলক্ষ্য তৈরি করে।
এই ধরণের ঘটনাগুলোতে প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়শীল ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সজীব ওয়াজেদের স্টেটমেন্টে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি শুধুমাত্র শোকপ্রকাশ করেননি, বরং ঘটনাটির গভীরতা বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছেন।
এটি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মূল্যবোধ, জবাবদিহি ও নিরাপত্তা সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তার সপক্ষে একটি স্পষ্ট অবস্থান।
