সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা রিয়াদসহ চারজনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
সাবেক মহিলা এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও তিন সহযোগীকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় গণমাধ্যম, রাজনৈতিক অঙ্গন ও ছাত্রসংগঠনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আজ রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমান এই রিমান্ড আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা:
- আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ – বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক
- সাকাদাউন সিয়াম
- সাদমান সাদাব
- মো. ইব্রাহিম হোসেন
এছাড়া একটি শিশুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে রেখেছে, যাকে বলা হচ্ছে “আইনের সংঘাতে জড়িত”।
অভিযোগের বিবরণ:
এজাহারে বলা হয়, ১৭ জুলাই সকাল ১০টায়, রিয়াদ ও তার সহযোগীরা গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে শাম্মী আহমেদের বাসায় প্রবেশ করে।
৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন। চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
পরবর্তীতে তারা আবারও চাপ দিতে থাকে। ২৬ জুলাইয়ের ঘটনায় গুলশান থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে।
তবে অভিযুক্ত কাজী গৌরব অপু পালিয়ে যান।
আদালত ও আইনি প্রক্রিয়া:
তদন্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী আক্তার হোসেন ভুইয়া জামিন চান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর ও জামিন নামঞ্জুর করেন।
বিশ্লেষণ:
এ ঘটনাটি ছাত্র রাজনীতির আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে আবারও সামনে এনেছে।
বৈষম্যবিরোধী দাবিতে গড়ে ওঠা একটি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এমন চাঁদাবাজি, হুমকি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এতে প্রশ্ন উঠছে—
- ছাত্রসংগঠনগুলো কতটা নিয়ন্ত্রিত বা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত?
- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আদৌ ছাত্র রাজনীতির নামে অপরাধে জড়াচ্ছেন কি না?
- প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তি ও সংগঠনের নামে ব্ল্যাকমেইল কৌশল কি চলমান?
