আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে—ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন শাসন স্বৈরতন্ত্রের নতুন রূপ ধারণ করেছে। “হাসিনা নয়, এখন ইউনূসই বড় স্বৈরাচার” শ্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ, মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট এবং বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও রাজনৈতিক দমনের নতুন রূপ ধারণ করছে। এ কারণেই সামাজিক মাধ্যমে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উচ্চারিত হচ্ছে নতুন শ্লোগান: “হাসিনা নয়, এখন ইউনূসই বড় স্বৈরাচার!”
শ্লোগানের উত্থান ও তাৎপর্য
শ্লোগানটি প্রথমে অনানুষ্ঠানিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রবাসী রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৫ সালের নির্বাচনপূর্ব অস্থিরতার সময় বিরোধী শক্তিগুলো নিজেদেরকে গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই শক্তিগুলোই একই ধরনের স্বৈরাচারী প্রবণতা দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে, জনগণের মুখে এই শ্লোগান যেন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ
বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের রিপোর্টে লিখছে, ইউনূস প্রশাসনের অধীনে নাগরিক স্বাধীনতা ক্রমশ সীমিত হচ্ছে। সেনা-তত্ত্বাবধান, ভিন্নমত দমন, ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যেখানে শুরুতে আন্তর্জাতিক মহল আশা করেছিল, এই সরকার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে; এখন সেখানেই উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে দমন-পীড়ন ও ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের কারণে।
জনমনে প্রতিফলন
রাজপথের আন্দোলন থেকে অনলাইন আলোচনা—সবখানেই এই শ্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
অনেক নাগরিকের মতে, আগের সরকারের সীমাবদ্ধতা থাকলেও অন্তত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা টিকে ছিল।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয়, অনিশ্চয়তা ও দমন-পীড়ন এতটাই তীব্র হয়েছে যে তা আগের তুলনায় আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।
ফলে জনগণের উদ্বেগ ও প্রতিবাদের ভাষা একীভূত হয়ে দাঁড়িয়েছে এই শ্লোগানে।
রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শ্লোগান শুধু বিরোধী মতের প্রকাশ নয়; বরং এটি বর্তমান ক্ষমতাকাঠামোর প্রতি এক ধরনের অস্বীকৃতি।
এর মাধ্যমে জনগণ জানাচ্ছে যে, তারা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি চায় না—সে হাসিনা হোক বা ইউনূস।
অর্থাৎ, এ শ্লোগান এক নতুন রাজনৈতিক ধারনার প্রতীক হয়ে উঠেছে—স্বৈরাচারবিরোধী জনমতের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর।
উপসংহার
“হাসিনা নয়, এখন ইউনূসই বড় স্বৈরাচার”—এই শ্লোগান হয়তো এখনো কোনো মূলধারার পত্রিকার শিরোনামে ওঠেনি।
কিন্তু এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণও একই সতর্কবার্তা দিচ্ছে—যদি ক্ষমতাকেন্দ্রিক শাসন ও দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকে, তবে ইউনূস সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে।
