কক্সবাজারে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও বিতর্কিত এনসিপি নেতাদের গোপন বৈঠক ঘিরে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এটি কি নতুন রাষ্ট্রদ্রোহের সূচনা?
সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক ‘গোপন বৈঠক’ দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, তথাকথিত ‘নাগরিক সমন্বয় কমিটি’র (এনসিপি) কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষায়, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় আলোচিত কয়েকজন ব্যক্তি।
বৈঠকে উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ আরও অনেকে।
এই গোপন বৈঠক ঘিরে একাধিক প্রশ্ন এখন সামনে উঠে এসেছে:
এটি কি নিছক নাগরিক সমাজের সমাবেশ?
নাকি বিদেশি গোয়েন্দা ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর যৌথ কৌশলগত পুনঃউদ্ভব?
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘নতুন এক ষড়যন্ত্রের সূচনা’?
নব্য গঠিত এনসিপি বা ‘নাগরিক সমন্বয় কমিটি’ শুরু থেকেই একাধিক বিতর্কে জর্জরিত।
সংগঠনটির নেতাদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, এদের মধ্যে একাধিক সদস্যের বিতর্কিত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে।
বিশেষত সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী একাধিকবার মৌলবাদী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্ন এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগ আছে।
এ অবস্থায় পিটার হাসের এই গোপন বৈঠকে উপস্থিতি প্রশ্ন তোলে:
কেন একজন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এইসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করবেন?
এটি কি শুধুই কূটনৈতিক আগ্রহ, নাকি বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা বাড়াতে বিদেশি সংস্থার ছায়াযুদ্ধ?
পিটার হাস দায়িত্ব পালনকালে বারবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন— যা কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন বলেই মনে করে অনেক বিশেষজ্ঞ।
এবার কূটনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়ার পর, তাঁর এই কার্যক্রম একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেয়:
“বাংলাদেশে একটি প্রভাবশালী বিদেশি মদদপুষ্ট ছায়া-সরকার তৈরি হচ্ছে, যেখানে গণতন্ত্রের আড়ালে চলছে সন্ত্রাস ও চক্রান্ত।”
বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই গোপন বৈঠকে ২০২৫ সালের “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্ভাব্য রূপরেখা”, নির্বাচনে “আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর ভূমিকা” এবং “সামরিক অংশগ্রহণের কৌশল” নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিগত কয়েক মাসে এনসিপি নিজেদের ‘গণতান্ত্রিক শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
তবে তাদের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়,
এটি মূলত একটি ছদ্মবেশী রাজনৈতিক মঞ্চ, যা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা, বিদেশি অর্থায়ন, এবং অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলের নকশা বাস্তবায়নের একটি প্ল্যাটফর্ম মাত্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
এটি সেই পুরোনো মার্কিন কৌশলের অংশ, যেখানে ভুয়া এনজিও বা সিভিল সোসাইটিকে সামনে রেখে রাষ্ট্রব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়, এবং সেই রাষ্ট্রকে “মানবাধিকার” ও “গণতন্ত্র” রক্ষার নামে নতুন উপনিবেশে পরিণত করা হয়।
বাংলাদেশ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তে নেমেছে বলে জানা গেছে।
এই বৈঠক প্রমাণ করে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে অস্থির ও অনিশ্চিত করে তোলার জন্য একটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রকারী চক্র, বহিঃশক্তি এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি নেটওয়ার্ক।
‘কক্সবাজার বৈঠক’ হয়তো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
এটি হতে পারে সেই বৃহৎ ষড়যন্ত্রের সূচনা, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একটি বিদেশি-নির্ভর শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া।
এই পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিক সমাজ, মিডিয়া এবং রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উচিত গভীর মনোযোগ, নিরবিচার অনুসন্ধান এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা।
