ড. ইউনূসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক আমেরিকান ঘরানার ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ দানবের ছায়া রাষ্ট্র। জামায়াত, এনসিপি ও এনজিও কাঠামো মিলিয়ে গঠিত এই হায়েনার জোট কীভাবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলেছে, তা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
গ্রীক পুরাণে প্রমিথিউস কাদামাটি দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করতেন। সেই প্রতীকী ধারা ধরে ১৯ বছর বয়সী মেরি শেলি সৃষ্টি করেছিলেন এক কল্পনার দানব—ফ্রাঙ্কেনস্টাইন। কিন্তু বাংলাদেশে সেই কল্পনার দানব এখন বাস্তব। আমেরিকার ‘ফুড পলিটিক্স’ (১৯৭৪) এর গর্ভে জন্ম নেওয়া এই দানবের নাম—ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ তিনি কেবল একজন এনজিও উদ্যোক্তা নন, বরং একটি ছায়া রাষ্ট্রের কর্ণধার।
যিনি সেনাবাহিনী, এনজিও, জামায়াত শিবির ও বৈদেশিক গোয়েন্দা চক্রের সমন্বয়ে গঠন করেছেন এক হায়েনার শিকারজাল।
বাঘ একা শিকার করলেও হায়েনারা দল বেঁধে করে—এখানেই ইউনূসের ক্ষমতার মৌলিক চরিত্র।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইতিহাসে লেখা থাকবে বাংলাদেশের জন্য এক কালো অধ্যায় হিসেবে।
এই দিনেই দৃশ্যমান হয় ইউনূসের কর্তৃত্ববাদী ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্রের’ রূপরেখা।
সেনাবাহিনীর সহায়তায় বন্দুকের নলের মুখে জনগণের রায়কে পিষে দিয়ে গদি দখল, এবং পরবর্তীতে হিটলারের নাৎসি আদলে গোপন পুলিশ বাহিনী এনসিপি প্রতিষ্ঠা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা পদদলিত হয়েছে।
এনসিপির গোপন কার্যক্রম, জামায়াতের পুরাতন ক্যাডারদের পুনঃউৎপাদন, এবং জনগণের ওপর নির্বিচারে দমন-পীড়নের নীলনকশা কার্যত হিটলারের গেস্টাপোর সমতুল্য।
এই “গেহেইমে স্ট্যাটজপোলিসেই” (Geheime Staatspolizei) ইউনূসের কর্তৃত্ব এখন দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক বিরাট হুমকি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন চীন সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাব বলয়ের বিস্তার ভারত, চীন, রাশিয়া এমনকি মায়ানমার ও ভিয়েতনামের জন্য নিরাপত্তাজনিত হুমকি।
একটি ‘জামায়াতিক ছায়া রাষ্ট্র’ হিসেবে বাংলাদেশের পুনর্গঠন দক্ষিণ এশিয়াকে আফগান-পাকিস্তান সন্ত্রাসের যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
এ কারণেই এখন সময় RIC (Russia-India-China) জোটের নতুন কাঠামো নির্মাণের।
আরেকটি পাকিস্তান তৈরি হওয়ার আগেই বন্ধুত্ব ও নিরাপত্তা জোটের মধ্যে শক্ত অবস্থান নিতে হবে এই তিন পরাশক্তিকে।
বেশ কিছু পশ্চিমা শক্তি আশায় বুক বেঁধেছে—আওয়ামী লীগ আর ফিরে আসবে না।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৭৫-এর পরিণতিও আওয়ামী লীগ অতিক্রম করেছে।
আজও দলটি জনগণের ভালোবাসা ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
শেখ হাসিনা চাইলেই গদি পুনর্দখল করতে পারেন, কিন্তু তিনি অপেক্ষা করছেন—জনগণের রায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থে।
আওয়ামী লীগ কারো দয়ায় ক্ষমতায় যায় না, যায় জনগণের ভালোবাসায়।
এটাই দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, আর ইউনূসের হায়েনা সংস্কৃতির মূল বিপরীতমুখী দর্শন।
বাংলাদেশে প্রধান দুই ধারার রাজনীতি—আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি-জামায়াত।
বিএনপি নেতৃত্বহীন ও বিভ্রান্ত; জামায়াত অতীতের কুকর্মের ইতিহাস বয়ে বেড়ানো এক বিভীষিকা।
উল্টো দিকে আওয়ামী লীগ মুজিববাদ ও জাতীয়তাবাদী দর্শনের ধারক।
রাজনৈতিক যুদ্ধে জয়ী হতে হলে প্রয়োজন ঐক্য, সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং শিক্ষিত তরুণদের অংশগ্রহণ।
ছাত্রলীগকে কলমযোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, ইতিহাস জানাতে হবে, এবং রাজাকারদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
“মেধা ও মননে জামায়াতকে পরাজিত করাই হবে চূড়ান্ত বিজয়।”
ইতিহাস আমাদের বলে, কোনো দানবই স্থায়ী হয় না।
ফেরাউন, হিটলার, মুসোলিনি—সবাই পতিত হয়েছে।
ইউনূসও হবে।
তার বিচারের মঞ্চ তৈরি হচ্ছে।
এ দেশের মাটি ও মানুষ তাকে চিরকাল ক্ষমা করবে না।
এই যুদ্ধটি কেবল গদি ফিরে পাওয়ার নয়—এটি একটি আদর্শের লড়াই।
যে আদর্শের নাম বাংলাদেশ।
