১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন, যেদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার এই দিনের ছুটি বাতিল ও জাতীয় দিবস থেকে বাদ দেওয়ায় শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শোকাবহ দিনগুলোর একটি। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় স্বাধীনতার স্থপতি ও বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঘটনায় নিহত হন তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং আত্মীয়স্বজন।
দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
শোক দিবস হিসেবে এই দিনটি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।
তবে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে সরকারি স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে।
পরে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আদালতের রায়ে পুনরায় দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ আগস্ট ঘোষণা দেয়— ১৫ আগস্টের সাধারণ ছুটি বাতিল করা হবে।
একই বছরের ১৬ অক্টোবর এই দিনটিকে জাতীয় দিবসের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে।
বিরোধী দলগুলোর মতে, ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকারের সামিল,
অন্যদিকে সরকারের যুক্তি— জাতীয় দিবস ও সরকারি ছুটির তালিকা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পূর্বের কর্মসূচি
শোক দিবসে সাধারণত কালো পতাকা উত্তোলন, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, ধানমণ্ডি ও টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, বিশেষ দোয়া-মাহফিল, কোরআন তিলাওয়াত, সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভা, এবং গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হত।
- ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ
- জাতীয় শোক দিবস
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা
- ২০২৪ ছুটি বাতিল
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
