যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের পুত্র অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহিল আমান আজমি সেনাবাহিনীকে ইসলামীকরণের মাধ্যমে আইএসআই–সমর্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি আর্মি গঠনের চেষ্টা করছেন, যার লক্ষ্য ভারতের ভেতরে নাশকতা চালানো।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবারই সামরিক বাহিনীর ভেতর রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিভাজনের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এবার যে পরিকল্পনার খবর বেরিয়ে এসেছে, তা শুধু জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই নয়, গোটা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতের প্রাক্তন আমির গোলাম আযমের ছেলে—অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আজমি।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে,
আজমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইকে ধ্বংস করে একটি ইসলামপন্থী সশস্ত্র বাহিনী—Islamic Revolutionary Army (IRA)—গঠনের ছক কষছেন।
তার এই মিশন পাকিস্তানি আইএসআই, আরাকান ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী এবং দেশের ভেতরের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এগোচ্ছে।
আজমির অন্যতম সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হাসান নাসির, যিনি সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে অবাঞ্ছিত ঘোষিত হয়েছেন।

তাদের লক্ষ্য সেনাবাহিনীতে বিভাজন সৃষ্টি করে আইআরএ প্রতিষ্ঠা।
এই পরিকল্পনার পেছনে সরাসরি জড়িত জামায়াত-শিবির, এবি পার্টি এবং এনসিপি–এর কিছু নেতা।

পাকিস্তানি সেনা ও আইএসআই কর্মকর্তাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গোপন বৈঠক এই ষড়যন্ত্রকে গতিশীল করছে।
আজমি বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হককে প্রকাশ্যে আশ্রয় দিচ্ছেন, যিনি আল-কায়েদার দক্ষিণ এশিয়া শাখা আনসার আল-ইসলাম–এর শীর্ষ নেতা।

তারা যৌথভাবে জঙ্গিদের কমান্ডো প্রশিক্ষণ দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জিয়ার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ একাধিক মামলা থাকলেও, অন্তর্বর্তী সরকার এবং সেনা–জামাত ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাকে ‘ক্লিন চিট’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এমনকি তিনি মণিপুর, খালিস্তান ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর অফিস ঢাকায় স্থাপনের অনুমতি চেয়েছেন।
আজমি তার সেকেন্ড–ইন–কমান্ড হিসেবে আইএসআই এজেন্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানকে নিয়োগ করেছেন।
তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং ঢাকায় অবস্থানরত আটকে পড়া পাকিস্তানিদের জিহাদি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
এখানে আইএসআই, এআরএসএ, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন এবং আরাকান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের নেতাদের সাথে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে।
সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে, এই ষড়যন্ত্র শুধু ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এতে জড়িত রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক খেলা।
পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের আমেরিকা সফরে আরাকান করিডোরকে কেন্দ্র করে সমন্বয় বৈঠক হয়েছে।

ইউনূস সরকারও এই পরিকল্পনায় পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছে, যা মিয়ানমারে চীনা প্রভাব মোকাবিলা এবং আরাকান সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার অজুহাতে বাস্তবায়ন হচ্ছে।
আজমি কখনোই বাংলাদেশের সংবিধান, জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতকে স্বীকৃতি দেননি।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন, পহেলা বৈশাখসহ বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং ভারতবিরোধী বক্তব্য প্রচার করেছেন।
তার সামরিক প্রশিক্ষণও আইনি প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ কমিশন লাভের সময় তিনি বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন না।
এই গোটা চিত্রটি প্রমাণ করে যে, এটি শুধু কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়—এটি একটি সুসংগঠিত, বহুমুখী ষড়যন্ত্র।
একদিকে সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ এবং তৃতীয়দিকে পাকিস্তানি-আমেরিকান স্বার্থের সাথে সমন্বয়—সবকিছুই মিলে এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে অস্থিতিশীল করার ব্লুপ্রিন্ট।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই ষড়যন্ত্র দ্রুত গতি পেয়েছে, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক শূন্যতা কিভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
