ধানমন্ডির রিকশাচালক গ্রেপ্তার নিয়ে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিবের নির্দেশে গ্রেপ্তার হয়েছে। বিশ্লেষণে ধরা পড়ছে সরকারের ভেতরের দ্বন্দ্ব ও স্বচ্ছতার সংকট।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমানের গ্রেপ্তারের ঘটনা যেন হঠাৎ করেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরের অস্বচ্ছতা ও দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করেছে। একদিকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে থানার ওসিকে ব্যাখ্যা তলব করছে, অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে—এই গ্রেপ্তারের পেছনে সরাসরি নির্দেশ ছিল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল ইসলামের।
এই দ্বিমুখী তথ্যপ্রবাহ কেবল আইনের শাসন নয়, বরং সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে,
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ব্যাখ্যা দিতে হবে—কোন যুক্তিতে এবং কীসের ভিত্তিতে একজন সাধারণ রিকশাচালককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হলো।
কিন্তু যদি সত্যিই এই নির্দেশ থানার অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ না হয়ে প্রেস সচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে হয়ে থাকে, তবে এটি কেবল আইনের অপব্যবহার নয়—বরং পুরো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নতুন কিছু নয়।
তবে এই মুহূর্তে বিষয়টি অনেক বেশি সংবেদনশীল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবিকৃত মূল লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
অথচ সরকারের ভেতর থেকেই যদি আইনের অপব্যবহার হয়, তবে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্যই থাকে না।
সম্প্রতি সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৭৩(এ) ধারা অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত ও প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ আসলে জনআস্থার সংকট কাটানোর চেষ্টা মাত্র।
কিন্তু জনগণ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলছে—আইন কি শুধু প্রহসনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে?
ধানমন্ডি ৩২ নামক এলাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত স্থান।
সেখানে একজন সাধারণ রিকশাচালকের গ্রেপ্তার এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক নির্দেশের অভিযোগ অনেককেই আতঙ্কিত করেছে।
মানুষ ভাবছে—
যদি একজন রিকশাচালকও নিরাপদ না হন, তবে সাধারণ জনগণের অবস্থান কোথায়?
অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রাখার আর কোনো কারণ কি অবশিষ্ট থাকে?
বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যখন রাজনৈতিক নির্দেশে কাজ করেছে, তখন সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন।
তাই এখনো যদি একই ধারা বজায় থাকে, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মানুষের আশা শেষ পর্যন্ত হতাশায় রূপ নিতে পারে।
ধানমন্ডির রিকশাচালক গ্রেপ্তারের ঘটনা নিছক একটি সাধারণ আইন-শৃঙ্খলা বিষয় নয়; এটি সরকারের ভেতরের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আইনের অপব্যবহার এবং স্বচ্ছতার সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনগণ এখন অপেক্ষা করছে—সরকার কি সত্যিই স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনবে, নাকি এই ঘটনাও কেবল আরেকটি ধামাচাপা দেওয়া কেলেঙ্কারির তালিকায় যুক্ত হবে?
