ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে ফুল দিতে গিয়ে মারধর খেয়ে কারাগারে যাওয়া রিকশাচালক আজিজুর রহমান জামিন পেলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মব ভায়োলেন্স নিয়ে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক।
ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মব ভায়োলেন্সের শিকার হন এক সাধারণ রিকশাচালক আজিজুর রহমান। ফুল কেনার পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে তিনি গণপিটুনির শিকার হয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।
শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা জামিন অযোগ্য করার আবেদন করলেও, রবিবার (১৭ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জামিন আবেদন করলে আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে মুক্তির আদেশ দেন।
এর আগে, জুলাই আন্দোলনের হত্যাচেষ্টা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পরিকল্পিত বলে মনে করছেন অনেকে।
এই ঘটনা শুধু একজন সাধারণ রিকশাচালকের দুর্ভোগই নয়,
বরং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জায়গা, সেখানে একটি সাধারণ মানুষকে এভাবে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে
কারাগারে পাঠানো গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য অশনিসংকেত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আজিজুর রহমানের মুক্তির মাধ্যমে সাময়িক স্বস্তি এলেও,
এ ঘটনাকে ঘিরে দেশের বিচারব্যবস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
