দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে দেড় বছরের আদিবাসী শিশু লিলিসা বেসরাকে মুক্তিপণ না পেয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় সমাজের মানবিক অবক্ষয়, আদিবাসী নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে বিশ্লেষণ।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে দেড় বছর বয়সী আদিবাসী শিশু লিলিসা বেসরার হত্যাকাণ্ড কেবল একটি স্থানীয় অপরাধ নয়, বরং আমাদের সমাজের ভয়াবহ মানবিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। মুক্তিপণ দাবি, ব্যর্থ হলে ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ—এ এক প্রমাণ যে বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে অপরাধ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং একটি সংগঠিত অপরাধ সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে।
শিশু অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা বাংলাদেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়।
তবে ভয়াবহ দিক হলো—অপরাধীরা যখন বুঝতে পারে অর্থ আদায় সম্ভব হচ্ছে না, তখন শিশুকে হত্যা করাতেও তারা দ্বিধা করে না।
লিলিসার ঘটনা প্রমাণ করছে, অপরাধীরা কেবল লোভী নয়, বরং অমানবিক ও নিষ্ঠুরতায় সীমাহীন।
লিলিসা ছিল সাঁওতাল সম্প্রদায়ের শিশু।
বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী বহুদিন ধরেই ভূমি দখল, সহিংসতা, ও বৈষম্যের শিকার।
এবার তাদের অস্তিত্বকেই আরও ভীতিকর করে তুলেছে এই শিশু হত্যার ঘটনা।
এ যেন বার্তা দিচ্ছে—রাষ্ট্র ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই তারা নিরাপত্তাহীন।
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায় না।
এর ফলে অপরাধীরা সাহস পায়।
যদি আগের অপরাধীদের দ্রুত বিচার হতো, হয়তো লিলিসাকে আজ এভাবে প্রাণ দিতে হতো না।
এই হত্যাকাণ্ডের দায় শুধু তিন আসামির নয়। এটি আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক ব্যর্থতা।
রাষ্ট্র যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ, সমাজ সেখানে নৈতিকতা হারিয়েছে।
একটি শিশুর কান্না ও হাসিকে রক্ষা করতে না পারা আমাদের মানবিক দেউলিয়াত্বের প্রকাশ।
লিলিসার মৃত্যু শুধু একটি শিশুর মৃত্যু নয়, বরং এটি আমাদের সমাজের নীরব হত্যাকাণ্ডের প্রতীক।
যদি আজ আমরা প্রতিবাদে সোচ্চার না হই, কালকে আরও লিলিসা, আরও নিষ্পাপ শিশু আমাদের চোখের সামনে হারিয়ে যাবে।
