পাকিস্তানি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আবারও প্রমাণ করছে—বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধ্বংস করার নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সাথে একীভূত করা।
১৬ই আগস্ট পাকিস্তানের একটি প্রভাবশালী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে “গাদ্দার” আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড ছিল ইতিহাসের ন্যায়বিচার। আরও উদ্বেগজনক হলো, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘৃণ্য রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসদের “দেশপ্রেমিক বীর” হিসেবে উপস্থাপন করা।
প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—
বাংলাদেশের উচিত আবার পাকিস্তানের সাথে একীভূত হওয়া, এবং এ কাজের নেতৃত্বে থাকবে গোলাম আযমের ছেলে আমান আজমি।
তাকে সেনাপ্রধান বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ যেন মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করার নীলনকশা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি ছিল একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অর্জন।
কিন্তু পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগকে অস্বীকার করে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তোলে এবং স্বাধীনতার লড়াইকে “গণ আন্দোলন” আখ্যা দেয়।
এর মাধ্যমে তারা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।
এ ধরনের অপপ্রচারের পেছনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা এবং তাদের সহযোগী আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
অতীতেও তারা একই কৌশলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, এখন আবারো সেই অপচেষ্টা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—
এমন ভয়াবহ ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশের বর্তমান ইউনূস সরকার কোনো প্রতিবাদ জানায়নি।
রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিকে আক্রমণ করা হলেও সরকারি নীরবতা আসলে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি এক ধরনের পরোক্ষ সমর্থন। অন্যদিকে, জামাত-ই-ইসলামীও নীরব রয়েছে।
যারা নিজেদেরকে “দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি” দাবি করে, তাদের এই নীরবতা প্রমাণ করছে—তাদের চেতনা আসলে পাকিস্তানপন্থী।
যদি তারা প্রতিবাদ না করে, তাহলে উত্তর স্পষ্ট: তারা এখনো পাকিস্তানের দোসর।
এই প্রতিবেদন শুধু একটি মতামত নয়, এটি একটি সুসংগঠিত বার্তা। পাকিস্তানি শক্তি আজও বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে পারছে না।
তারা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে, জাতীয়তাবাদকে দুর্বল করতে এবং বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানের করায়ত্তে আনার জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার চালায়, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
আজকের পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান পাকিস্তানপন্থী ষড়যন্ত্রের সর্বশেষ রূপ।
নীরবতা মানে আত্মসমর্পণ, আর আত্মসমর্পণ মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাসঘাতকতা করা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখতে হলে এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
কারণ একীভূত পাকিস্তানের স্বপ্ন, বাংলাদেশের জন্য শুধু হুমকি নয়—এটি সরাসরি জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন।
