২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার সময়কার ড্রাইভার জাহাঙ্গির আলম ও নোয়াখালীর সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিম আজ জামাতের সহযোগী হয়ে উঠেছে। ঘুষ, দুর্নীতি ও পদবাণিজ্যে শত শত কোটি টাকা বানিয়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীদের ঠকিয়ে এরা জামাত-বিএনপিকে শক্তিশালী করছে। চাটখিল-সোনাইমুড়ীর মাফিয়া গডফাদারদের কাহিনি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারীদের ছদ্মবেশী চরিত্র কখনোই নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নোয়াখালী-০১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে যা ঘটছে তা শুধু লজ্জাজনক নয়, ভয়ংকরও বটে। এখানে এক প্রাক্তন ড্রাইভার এবং এক এমপি মিলে আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফলকে জামাত-বিএনপির হাতে তুলে দিচ্ছে।
ড্রাইভার থেকে ৪০০ কোটির মালিক
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার সময় গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন জাহাঙ্গির আলম। পরে শেখ হাসিনার আশ্রয় ও আস্থা থেকে সুযোগ নিয়ে তিনি “পার্সোনাল পিএস” পরিচয় দিয়ে রাজনীতির আড়ালে দুর্নীতি ও পদবাণিজ্যের পাহাড় গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, গত নির্বাচনের আগে তিনি একাই প্রায় ৪০০ কোটি টাকা রোজগার করেন ঘুষ ও অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে। এক সময়ের ড্রাইভার আজ কোটি টাকার মালিক, অথচ তার হাত ধরে জামাত ঘরে ঢুকছে।




টাকা দিয়ে কেনা এমপি এইচ এম ইব্রাহিম
অন্যদিকে, সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিম—জাসদ থেকে আসা এই নেতা টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনে একাধিকবার সাংসদ হয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যখন রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে আওয়ামী লীগের পতাকা ধরে রেখেছেন, তখন ইব্রাহিম পদবাণিজ্যের মাধ্যমে বিএনপি-জামাতকে বারবার স্থায়ী আশ্রয় দিয়েছেন। অভিযোগ আছে, গত ১৬ বছরে তিনি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ভেঙে বিএনপি-জামাতকে শক্ত করেছে।
জামাত নেতাকে ক্রেস্ট উপহার—চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা
সাম্প্রতিক সময়ে এই ড্রাইভার জাহাঙ্গির আলম ও এমপি ইব্রাহিম মিলে জামাতের আমিরকে ক্রেস্ট উপহার দিয়েছেন।
অথচ এই জামাত নেতা আগামী নির্বাচনে নোয়াখালী-০১ আসন থেকে জামাতের প্রার্থী! প্রশ্ন জাগে—এরা আসলে কার স্বার্থ রক্ষা করছে? শেখ হাসিনার দলের, নাকি জামাত-বিএনপির?
মডেল মসজিদেও দুর্নীতি
জননেত্রী শেখ হাসিনা চাটখিল-সোনাইমুড়ীতে মডেল মসজিদ নির্মাণের উপহার দেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্থানীয় এমপি সেই কাজ আওয়ামী লীগপন্থীদের না দিয়ে বিএনপি ঘরানার ঠিকাদারদের হাতে তুলে দেন।
কারণ? আওয়ামীবান্ধব ঠিকাদাররা ৭% বা ১০% ঘুষ দিতে রাজি ছিল না! অর্থাৎ উন্নয়নকাজও পরিণত হয়েছে দুর্নীতির ব্যবসায়।
মাফিয়া ডনের আসল রূপ
এইচ এম ইব্রাহিম নিজেকে “মাফিয়া ডন” বলে পরিচয় দিতেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই তথাকথিত ডন কি কখনো আওয়ামী লীগের জন্য আন্দোলন করেছেন? ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কি কোনো মিছিল-মিটিং করেছেন দলের পতাকা হাতে? উত্তর স্পষ্ট—না। তার মাফিয়া গিরি সীমাবদ্ধ ছিল আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীদের দমন-পীড়ন ও শোষণে।
বিশ্লেষণ ও শিক্ষা
একজন ড্রাইভার ঘুষ-দুর্নীতির পাহাড় গড়ে কোটি টাকার মালিক, আর একজন এমপি টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনে আওয়ামী লীগের মূল ঘাঁটিকে দুর্বল করেছে।
তারা দুজন মিলে আজ জামাত-বিএনপির হাতিয়ার। এরাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে কলঙ্কিত করছে।
যেখানে তৃণমূল নেতাকর্মীরা রাতদিন লড়াই করে আওয়ামী লীগের পতাকা রক্ষা করছে, সেখানে ড্রাইভার আর এমপি মিলে দলের ভেতরেই গড়ে তুলছে ষড়যন্ত্রের ঘাঁটি।
শেষকথা:
৪০০ কোটির ড্রাইভার আর টাকা দিয়ে কেনা এমপি আজ আওয়ামী লীগের ঘাড়ে বোঝা।
এদের ভেতরের মুখোশ উন্মোচন না করলে চাটখিল-সোনাইমুড়ীর মতো ঘাঁটি জামাত-বিএনপির দখলে চলে যাবে।
আওয়ামী লীগের কর্মীরা আজ প্রশ্ন করছে—মুজিব পরিবারের রক্ত দিয়ে গড়া দলকে কি এভাবে বিশ্বাসঘাতকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে?
