বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে অপমান ও ছবিতে জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ’সহ বিশিষ্টজনদের নিন্দা-বিবৃতি। মুক্তিযোদ্ধা অপমান মানেই ইতিহাসকে অবজ্ঞা।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান আজ আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হলো। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ এবং তাঁকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং পুরো মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারকেই আঘাত করেছে।
‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ’সহ দেশ-বিদেশের মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক, শিল্পী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এক যৌথ নিন্দা-বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন ও রক্ত দিয়েছেন, তাঁদের সন্তানদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা জাতির নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান কেবল একজন রাজনীতিক নন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা।
সম্প্রতি তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত ও নিশ্চিহ্ন করার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এর পরপরই তাঁকে অপমানিত করার ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এই অপমান একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ—যেখানে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে ৫০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি নাম যুক্ত করেছেন।
এর মধ্যে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, শিল্পী অরুণা বিশ্বাস, কবি ও সাহিত্যিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, বিদেশে কর্মরত প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষকরাও।
এই বহুমাত্রিক সমর্থন প্রমাণ করে, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিয়ে কোনো আপস নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষকে হেয় করার সংস্কৃতি নতুন নয়।
কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান জাতীয় মনস্তত্ত্বে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এটি সমাজে বিভাজন, প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের মূলধারাকে দুর্বল করে।
ফজলুর রহমানের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা অটুট রাখাই কেবল জাতীয় দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা।
নিন্দাকারীরা পরিষ্কারভাবে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফজলুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশ্ন হলো—
রাষ্ট্র কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেবে? নাকি ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জালে আটকে যাবে?
যদি মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থ হই, তবে এটি কেবল এক ব্যক্তির নয়—পুরো জাতির পরাজয় হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার অর্থ হলো মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে অবমূল্যায়ন করা। তাই সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক শক্তি—সবার দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা করা।
ফজলুর রহমানের প্রতি অপমানজনক আচরণ প্রতিরোধ করা না গেলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা একটি ভুল বার্তা দিয়ে যাব।
