ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেছেন, এর চেয়ে জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাংলাদেশ আগে দেখেনি। শিক্ষক নিপীড়ন, রাজনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে তিনি সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে “বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য” বলে আখ্যায়িত করেছেন। আজ রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিদিন মানুষকে জান হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে। এই অস্থিরতার দায় সরকারের অক্ষমতা ও কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র।”
অধ্যাপক সামিনা অভিযোগ করেন, জুলাই মাসের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় মানুষ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে ইচ্ছাকৃত অস্থিরতা তৈরি করছে।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি সরকারের কঠোর ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, “এর চেয়ে জঘন্য পরিস্থিতি আমরা আগে দেখি নাই।”
তিনি সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানের লাঞ্ছনার প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসনের নীরবতাকে “স্বার্থবাদী রাজনীতির অংশ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
অধ্যাপক সামিনা আরও বলেন, “এক বছর আগে গণ-অভ্যুত্থান ছিল মানুষের ক্ষোভ। কিন্তু এখন নির্মাণের সময়। এই সময়ে আবার অস্থিরতা সৃষ্টি অগ্রহণযোগ্য।”
সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন,
গত এক বছরে নারী, বাউল, মাজার ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ হলেও রাষ্ট্র ও সরকারকে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের ওপর সেনা-পুলিশি নির্যাতনের ঘটনাও সেখানে আলোচিত হয়।
অধ্যাপক সামিনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল সংস্কার না হলে জাতি গভীর সংকটে পড়বে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছড়িয়ে পড়া “ভয়ংকর মব সংস্কৃতি” অবিলম্বে বন্ধ না করলে রাজনৈতিক সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান , উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম,
ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাহমিনা খানম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা।
