ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার। তিনি জানান, অমর একুশে হলসহ বিভিন্ন হলে আগে থেকেই ব্যালট পূরণ করে রাখা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখুন এই অভিযোগ ছাত্র রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে।
আগে থেকেই জাল ভোট দিয়ে ব্যালট পূরণ করে রাখা হয়েছে: আবু বাকের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আবারও ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী আবু বাকের মজুমদার মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে বিস্ফোরক দাবি করেন যে, “অমর একুশে হলে আগে থেকেই ব্যালট পূরণ করে রাখা হয়েছে।”
আবু বাকের জানান, শুধু একুশে হল নয়,
আরও কয়েকদিন আগে থেকেই খবর পাওয়া যাচ্ছিল যে প্রতিটি হলে ২০০–৩০০ করে ভোট আগে থেকেই পূরণ করে রাখা হবে।
এভাবে সর্বমোট প্রায় ৫,৬০০ ভোট কারচুপির শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মূল অভিযোগগুলো
- ভোটের পরিবেশ বাইরে থেকে স্বাভাবিক হলেও হলে হলে গোপনে কারচুপির ঘটনা ঘটেছে।
- বিশেষ করে অমর একুশে হলে আগে থেকেই ব্যালট পূরণ করে রাখা হয়েছে।
- আরও কয়েকটি হল, বিশেষ করে নারীদের হলগুলোতেও একই ধরনের কারচুপির আশঙ্কা।
- নির্বাচন কমিশন বারবার আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
আবু বাকের বলেন, “যাদের ভোট নেই, ক্যাম্পাসে জনসম্পৃক্ততা নেই—তাদের পক্ষেই এমন পরিকল্পনা সম্ভব।
শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন, কিন্তু জাল ব্যালট ঢুকিয়ে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে।”
নির্বাচনী কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের বড় একটি অংশ এই কারচুপির সঙ্গে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে যুক্ত।
শুরু থেকেই কমিশন দাবি করছিল যে এরকম কিছু ঘটবে না। কিন্তু আজকের দিনের অভিযোগ প্রমাণ করছে—শিক্ষার্থীদের সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে রোকেয়া হল ও সুফিয়া কামাল হলে ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল।
এবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠেছে, ডাকসু নির্বাচন কি আবারও অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হলো?
আবু বাকের বলেন, “ভোট দিয়ে প্রথমে ভালো লাগছিল। কিন্তু কারচুপির কথা শোনার পর খুব খারাপ লাগছে। কারণ ডাকসু আবারও এক কলঙ্কের মধ্যে প্রবেশ করল।”
ডাকসু নির্বাচনে এই অভিযোগ শুধু একটি প্রার্থী বা একটি প্যানেলের বিষয় নয়—বরং এটি পুরো ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য এক অশনি সংকেত।
ছাত্ররা যেখানে স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছিলেন, সেখানে পূর্বনির্ধারিত ব্যালট ভরাট প্রক্রিয়া সেই আশা ভেঙে দিয়েছে।
