মামুনুল হকের নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি দল আফগানিস্তান সফরে, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পাকিস্তানে। একই সময়ে এই সফরগুলো কি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কোনো গোপন মিশনের অংশ?
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে আফগানিস্তানে অবস্থান করছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বুধবার সৌদি আরব থেকে তারা কাবুলে পৌঁছায়। প্রতিনিধিদলে আছেন—নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা আবদুল আওয়াল, মাওলানা আবদুল হক, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মাওলানা মোনির হোসাইন কাসেমী ও মাওলানা মাহবুবুর রহমান।
হেফাজতের দাবি, এই সফর তালেবান সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে।
তবে আরেকটি সূত্র বলছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে তহবিল সংগ্রহও এ সফরের লক্ষ্য।
সফরে তারা তালেবান সরকারের বিচারপতি, কয়েকজন মন্ত্রী ও শীর্ষ উলামাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।



একই সময়ে পাকিস্তানে স্বরাষ্ট্র সচিব
এদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল ঘানি সরকারি সফরে পাকিস্তানে গেছেন।
১৮ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব দাউদ মুহাম্মদ বারেচ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এ সফরে দুই দেশের মধ্যে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, পুলিশ একাডেমির প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হবে।
একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের কথাও নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের গোপন মিশন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন,
একই সময়ে আফগানিস্তানে হেফাজতের সফর এবং পাকিস্তানে স্বরাষ্ট্র সচিবের সফর একধরনের কাকতালীয় মনে হলেও এর পেছনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা থাকতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় দলগুলোকে ব্যবহার করে এসেছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে হেফাজতকে মাঠে নামাতে কোনো বৈদেশিক ছক তৈরি হচ্ছে কি না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পাকিস্তান-আফগানিস্তান অক্ষের সঙ্গে হেফাজতের যোগাযোগ দৃঢ় হয়।
তবে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা একই সময়ে ইসলামাবাদ সফরে থাকায় পরিস্থিতি আরও সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে।
