বেলজিয়ামের ভিসা প্রসেসিং বাংলাদেশ থেকে নয়াদিল্লিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটা নিছক প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি ইউরোপের আস্থাহীনতার কূটনৈতিক বার্তা। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ইউনুস সরকারের বৈধতা সংকট ও সাধারণ মানুষের বাড়তি দুর্ভোগ।
বেলজিয়ামের ভিসা প্রসেসিং হঠাৎ করেই বাংলাদেশ থেকে নয়াদিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতদিন সুইডেন দূতাবাস ঢাকায় বসে বেলজিয়ামের ভিসা ইস্যু করত। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা হাত তুলে নিয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশিদের বেলজিয়াম ভিসা পেতে হলে আগে দিল্লি যেতে হবে।
এটা নিছক প্রশাসনিক কোনো পরিবর্তন নয়; বরং এর মধ্যে রয়েছে গভীর কূটনৈতিক বার্তা।
বেলজিয়াম স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিলো, তারা বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে না।
ইউনুস ও তার ঘনিষ্ঠ মহল এতদিন ঢাকঢোল পিটিয়ে বলছিল—ইউরোপের অন্তত সাতটি দেশ ঢাকায় নতুন দূতাবাস খুলতে যাচ্ছে, বিদেশিরা নাকি তার নেতৃত্বে আস্থা রাখছে।
টকশো থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সর্বত্র এই প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছিল।
কিন্তু বাস্তব চিত্র একেবারে উল্টো।
শুধু বেলজিয়াম নয়, আরও কিছু দেশ ধীরে ধীরে বাংলাদেশ থেকে কূটনৈতিক সম্পর্ক গুটিয়ে নিচ্ছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো এক ধরনের ‘নীরব বার্তা’ পাঠাচ্ছে—ইউনুস সরকারকে তারা বৈধ মনে করছে না।
বেলজিয়াম যে নয়াদিল্লিকে বেছে নিয়েছে, এর মধ্যেও রাজনৈতিক ইঙ্গিত রয়েছে।
কারণ ২০২৪ সালের জুলাই দাঙ্গার পর ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের দিল্লি যাওয়া মানেই আগে ভারতীয় ভিসার অনিশ্চয়তা।
ফলে বেলজিয়াম আসলে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসার পথ বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু সরাসরি “না” বলেনি।
কূটনৈতিক ভাষায় এটাকে বলে—‘কঠোর বার্তা, কিন্তু নরম মোড়কে’।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো বৈধতা।
আর সেই বৈধতা হারিয়েছে বাংলাদেশ।
ইউনুসকে আন্তর্জাতিক মহল দেখে একজন বিদেশি প্রজেক্ট হিসেবে, এনজিও-লবির প্রতিনিধি হিসেবে, যার ওপর আস্থা রাখা যায় না।
জাতিসংঘ বা পশ্চিমা বিশ্ব তাকে স্বীকৃতি দেয়—এমন দাবি যতই করা হোক, বাস্তবে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন একা: জনসমর্থন ছাড়া, কূটনৈতিক বন্ধু ছাড়া, আস্থাহীন অবস্থায়।
এই সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
যারা পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ বা ব্যবসার কাজে বেলজিয়ামে যেতে চান, তাদের এখন আগে দিল্লি যেতে হবে।
এতে খরচ, সময়, মানসিক চাপ সবই বাড়বে।
একসময় সবুজ পাসপোর্ট ছিল সম্মানের প্রতীক।
আজ সেটা হয়ে গেছে বিব্রতকর পরিচয়।
আজ বেলজিয়াম গেল, কাল হয়তো স্পেন বা জার্মানি একই পথে হাঁটবে।
এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং ধারাবাহিক পতনের প্রক্রিয়া।
যে দিন থেকে একজন এনজিও উদ্যোক্তা বিদেশি দয়ার ওপর ভর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করল, সেই দিন থেকেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদার ক্ষয়।
ইউনুস সরকার যতই প্রচার করুক—বিদেশিরা তার পাশে আছে—বাস্তবতা হলো ভিন্ন।
বেলজিয়াম তাদের কূটনৈতিক কৌশল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা বাংলাদেশকে এখন অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখছে।
এটা শুধু সরকারের জন্য নয়, গোটা জাতির জন্যই লজ্জাজনক।
আজকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউনুস এবং তার অবৈধ নেতৃত্ব।
