আমেরিকান বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন ট্রাম্প ও মার্কো রুবিওকে পরামর্শ দিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করতে এবং শেখ হাসিনাকে বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিতে। তিনি সতর্ক করেছেন, ইউনূস সরকারের ব্যর্থতা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।
রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী বিশ্লেষক ও American Enterprise Institute-এর সিনিয়র ফেলো মাইকেল রুবিন সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সিনেটর মার্কো রুবিওকে সতর্ক করে বলেছেন—বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইডেন প্রশাসনের ভুল নীতির পুনরাবৃত্তি করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক হবে।
Firstpost-এ প্রকাশিত তার বিশ্লেষণে রুবিন বাংলাদেশ নিয়ে এক কঠোর বাস্তবচিত্র উপস্থাপন করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন—বাইডেন প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ক্ষমতায় আসা ড. মুহাম্মদ ইউনূস “সংস্কারের নামে স্বৈরতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা করছেন।
রুবিনের লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে অপসারণের সূত্রপাত হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
তবে এই আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়—যার পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দেশ কাতার ও তুরস্কের অর্থায়ন ছিল বলে তার দাবি।
তিনি বলেন, “এই আন্দোলনকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে উদযাপন করা ছিল এক কূটনৈতিক ভুল, যা বাংলাদেশে ইসলামপন্থী শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।”
রুবিনের বিশ্লেষণে, ড. ইউনূসের প্রশাসনকে তুলনা করা হয়েছে ইয়েমেনের মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাবশালী নারী নেতা তাওয়াক্কল কারমানের সঙ্গে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূস নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা ব্যবহার করছেন রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য।
রুবিন বলেন,
“সাংবাদিক, প্রাক্তন সংসদ সদস্য, নাগরিক সমাজের নেতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করে ইউনূস এমন এক ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করেছেন,
যা বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”
রুবিন স্পষ্টভাবে সুপারিশ করেছেন— যুক্তরাষ্ট্রের উচিত জামায়াতে ইসলামীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা।
বাংলাদেশকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পর্যবেক্ষণ তালিকায় রাখা। শেখ হাসিনাকে “আসল নেতৃত্ব” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, যতক্ষণ না সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দমন-পীড়নের দায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
রুবিনের মতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন এসব পদক্ষেপ না নেয়, তবে বাংলাদেশে “আদর্শিক চরমপন্থা” শক্তিশালী হবে এবং তা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করবে।
রুবিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেছেন—
“যেভাবে জিমি কার্টারের ইরান নীতির ভুলের ফল এখনো বিশ্ব বহন করছে,
তেমনি বাংলাদেশে ভুল নীতি অনুসরণ করলে সেটি দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় হবে।”
তার মতে, শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নির্বাচিত নেতা নন, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক।
তাকে অগ্রাহ্য করে “ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে উগ্র গোষ্ঠীর উত্থানকে বৈধতা দেওয়া” যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভুল হবে।
রুবিনের সতর্কবার্তা শুধু মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র ও ধর্মীয় সহনশীলতার ভবিষ্যতের জন্যও প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশের অস্থিরতা কেবল অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; এটি ভারত, মিয়ানমার ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এ কারণেই রুবিনের বিশ্লেষণ বার্তা দেয়—যদি যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত মিত্রদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়া পরিণত হবে নতুন আদর্শিক যুদ্ধক্ষেত্রে।
