বৈদেশিক ঋণ মেলেনি, নিজস্ব তহবিলে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্প বাস্তবায়ন: ৮ মাসে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬৬০০ কোটি টাকা।
চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল)-এর দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) প্রকল্পে বিদেশি তহবিলের সম্ভাবনা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সরকার নিজস্ব তহবিল দিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। The Daily Star+1
প্রকল্পের একাধিক পুনর্বিন্যাস শেষে নতুন প্রস্তাবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে প্রায় ৩০ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা, এবং Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) দেবে আরও ১২ হাজার ৪৭৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
ব্যয়ের বৃদ্ধির কারণ ও সময়সীমা
প্রকল্প হঠাৎ নয়; মূল পরিকল্পনা অনেক আগেই করা হয়েছিল। ২০১০ সালে প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। The Financial Express+1
বর্তমানে মাত্র ৮ মাসের ব্যবধানে ব্যয় বেড়ে প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এছাড়া বিদেশি ঋণ মেলেনি—যার কারণে প্রকল্পে নিজস্ব অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ঋণ ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যর্থতা এবং নির্মাণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানিতে নির্ভরতা কমানোর আশা
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে, পরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বছরে শতশত কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। The Financial Express+1
বর্তমানে ইআরএল মাত্র বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধন করতে সক্ষম, যেখানে দেশীয় চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টনের কাছাকাছি। The Business Standard+1
প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সক্ষমতা বাড়িয়ে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন করা।
বিদেশি অংশীদার ও তহবিল আলোচনা
প্রকল্পের জন্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছিল। তবে সেসব কোন প্রতিশ্রুতি রূপ পায়নি। The Business Standard+1
এ সময় সরকারি এজেন্সিগুলো পরোক্ষাভাবে Asian Infrastructure Investment Bank (এআইআইবি) থেকে বাজেট সহায়তা নেওয়ার ব্যাপারে ভাবছে।
সময়সাপেক্ষতা ও বিলম্বের খরচ
বিশ্লেষকরা বলছেন—যদি প্রকল্পটি আগেই শুরু হতো, ব্যয় অনেক কম হতো। দীর্ঘ দেরি ও তহবিলের অনিশ্চয়তা প্রকল্প ব্যয়ে বড় বৃদ্ধি করেছে। The Business Standard+1
এ প্রেক্ষিতে “নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত কাজ শুরু করাটাই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত” বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন—“বিদেশি ঋণ বিনামূল্যে আসে না, সুদসহ ফেরত দিতে হয়।
অতএব সরকারের নিজস্ব অর্থায়নই ভালো বিকল্প।”
তাছাড়া ভোক্তা সংগঠন Consumers Association of Bangladesh (ক্যাব) প্রশংসা করেছে এই সিদ্ধান্তকে—ভালো দিকেই এগুচ্ছে বলেই তারা মনে করছে।
বার্তা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
এই প্রকল্প শুধু একটি শিল্প উদ্যোগ নয়—এটি দেশের জ্বালানি খাতের জন্য এক বড় ভূমিকা রাখবে।
সময়োচিত সিদ্ধান্ত এবং স্বচ্ছ বাস্তবায়ন হলে এটি সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় দরপত্র, ঠিকাদার নিয়োগ ও নির্মাণ পর্যায়ের খরচ নিয়ন্ত্রণসহ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক—যাতে বাজেট বৃদ্ধি বা দুর্নীতির ঝুঁকি কমায়।
উপসংহার
ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক তহবিল ব্যর্থতা এবং নিজস্ব অর্থায়নে এগিয়ে যাওয়া—এই তিনটি উপাদানই ইআরএল-২ প্রকল্পকে প্রকৃত সংকটের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে সরকারের সঠিক উদ্যোগ ও দক্ষ বাস্তবায়ন সহায়তা করলে এটি দেশের জ্বালানি খাতে বড় সাফল্য হতে পারে।
রেফারেন্স লিঙ্কস
- “Eastern Refinery’s second unit to be built with govt funding” — The Daily Star The Daily Star
- “Cost jumps nearly three times for Eastern Refinery’s delayed 2nd unit” — The Business Standard The Business Standard
- “Fresh project on stalled refinery moves, at a cost” — The Financial Express The Financial Express
