ডিজি আনসারের বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও ১২-বোর শটগান ক্রয়ে টেন্ডার কারচুপির অভিযোগ। একক কোম্পানি আদোরিয়া সার্ভিসের পক্ষে টেন্ডার সাজানো হয় বলে সূত্র।
বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তর (DG Ansar)-এর সাম্প্রতিক দুটি অস্ত্র ও সরঞ্জাম ক্রয় টেন্ডার ঘিরে উঠেছে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ। সরকারি ক্রয়নীতির PPR-2006/20028 নিয়ম লঙ্ঘন করে একটি কোম্পানির সাথে আতাত করে তাকে কাজ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুলেটপ্রুফ ভেস্ট টেন্ডার: ২০০০ পিস, ৯ জন অংশগ্রহণকারী
অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী,
২০০০টি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ক্রয়ের টেন্ডারে ৯টি কোম্পানি অংশ নেয়।
কিন্তু তদন্তে জানা গেছে, ৮টি প্রতিষ্ঠানকে অপ্রতিক্রিয়াশীল (non-responsive) ঘোষণা করে একমাত্র “নির্বাচিত কোম্পানিকে” অর্ডার দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ডিজি আনসার অনৈতিক সুবিধা নিয়ে উক্ত কোম্পানিটিকে কাজ দেয়।
১২-বোর শটগান টেন্ডার: ১৫,৩০০ পিস, একই প্যাটার্ন
আরেকটি টেন্ডারে ১২-বোর শটগান কেনার জন্য ১৫,৩০০টি অস্ত্র ক্রয়ের নিমিত্তে আন্তিরজাতিক দরপ্ত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এ ক্ষেত্রেও ১০টি কোম্পানি টেন্ডার জমা দেয়, কিন্তু ৯টি অপ্রতিক্রিয়াশীল (Non-responsive) ঘোষিত হয়।
ফলাফল— আদোরিয়া সার্ভিস নামক একটি প্রতিস্টানকে অতি উচ্চ মুল্য কাজ দেয়া হয় ।
উক্ত প্রতিষ্ঠানের ফরেন প্রিন্সিপাল হেইজেক এলেট্রনিক্স তুরস্কের ওয়েব সাইটে গিয়ে দেখা যায়-
তারা মুলত; কোন অস্ত্র উদপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয় বরং চায়নার নরিনকো কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর।
আরো জানা যায়, এক ধাপ দুই খাম পদ্দতিতে টেন্ডার হলেও , নির্ধারিত দিনে দরপত্র সবার সামনে না খুলে তারা তা গোপনে খুলে, যা আইনের সম্পুর্ন পরিপন্থি ।
উক্ত প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রের সকল শর্ত প্রতিপালন না করলেও; ডি জি অনৈতিক সুবিধা নিয়ে উক্ত কোম্পানিকে কাজ দিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠছে।
অভ্যন্তরীণ সূত্রের অভিযোগ,
এই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে ঘুষ ও কমিশন বিনিময়ের মাধ্যমে, যেখানে “ডিজি আনসার সরাসরি জড়িত তা না হলে এত বড় দুর্নীতি সম্ভব হতো না।”
সুত্র আরো জানায়,
তারা এমন একটা সময়ে টেন্ডার আহবান করেছে যাতে নির্বাচনের দোহাই দিয়ে অতিদ্রুত মালামাল দরকার বিবেচনায় কেউ যেন অভিযোগ তদন্ত করতে না পারে ।
অনুসন্ধান দাবি
সরকারি ক্রয় (PPR -2006/2008) আইন অনুযায়ী,
এমন পুনরাবৃত্ত “নন-রেসপনসিভ” টেন্ডার প্রক্রিয়া সাজানো প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে,
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে এ ধরনের গোপন ক্রয় প্রক্রিয়া দুর্নীতির সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র।
