ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে দিনে-দুপুরে গুলি; সিসিটিভিতে ধরা পড়ে হত্যার পুরো দৃশ্য, সন্দেহভাজন ইমন গ্রুপের সম্পৃক্ততা তদন্তে।
রান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে সোমবার সকালে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হয়েছেন তারিক সাইফ মামুন (৫৫)। পুলিশ বলছে, তিনি ছিলেন রাজধানীর একসময়কার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’, যিনি একসময় কুখ্যাত ‘ইমন-মামুন বাহিনী’র অন্যতম সদস্য ছিলেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা গুলির শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে দেখতে পান, এক ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে আছেন।
পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহত মামুনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা।
১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তি রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজে পুরো হত্যাকাণ্ড ধরা পড়ে

প্রথম আলোর হাতে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সকালে মামুন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন।
সেই সময় দুই ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি করেন। পুরো ঘটনাটি তিন থেকে চার সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে।
গুলি করার পর হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, “দুজন লোক এসে হঠাৎ গুলি চালায়। লোকটা পড়ে যায়, তারপর ওরা মোটরসাইকেল তুলে চলে যায়।”
পুলিশের ধারণা, পুরনো বিরোধেই খুন
পুলিশ বলছে, নিহত তারিক সাইফ মামুন একসময় সানজিদুল ইসলাম ইমন নামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগী ছিলেন।
পরে অপরাধজগতের প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র বিরোধ শুরু হয়।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াসিন বলেন, “গুলির শব্দ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই।
গিয়ে দেখি একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন। খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করছি।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মামুন ও ইমন একসময় যৌথভাবে গড়ে তুলেছিলেন ‘ইমন–মামুন বাহিনী’। এই বাহিনী রাজধানীর হাজারীবাগ,
ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, ইমনের লোকজন জড়িত
নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বলেন, “আমার স্বামী দুই দিন ধরে বাড্ডার ভাড়া বাসায় ছিলেন। আজ সকালে আদালতে হাজিরা দিতে বের হয়েছিলেন।
আমরা মনে করছি, ইমনের লোকজনই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। আগেও ওরা হত্যাচেষ্টা করেছিল।”
তিনি আরও জানান, তাঁর স্বামী অতীতে কিছু মামলার আসামি হলেও সম্প্রতি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং সংসার নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন।
মরদেহ মর্গে, তদন্ত শুরু
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কাছে থেকে একাধিক গুলি করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের আরও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
