বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ১৯ নভেম্বর দিল্লি যাচ্ছেন। ইউনুস সরকারের সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে টেনশন কমাতে জরুরি বৈঠকের চেষ্টা।
প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি
তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ |
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আগামী ১৯ নভেম্বর দিল্লি যাচ্ছেন। বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে—তার সফরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারত সরকার বা দিল্লি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ঢাকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফরের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়—এটি স্পষ্টতই একটি সংকট-ব্যবস্থাপনা মিশন।
ঢাকার চাপ বাড়ছে— দিল্লির দরজায় যাওয়ার বাধ্যবাধকতা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সাম্প্রতিক নীতিগুলো নয়াদিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে—
- পাকিস্তানের সঙ্গে অভাবনীয় সামরিক ঘনিষ্ঠতা
- সীমান্তবিষয়ক উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য
- ভারতবিরোধী টোনে সরকারি পদক্ষেপ
- আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় ঢাকার অনীহা
এসব বিষয় ভারতের কৌশলগত আস্থা নষ্ট করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
দীর্ঘদিন ভারতের যে ধৈর্য ছিল, ইউনুস সরকারের আচরণে সেই ধৈর্য ক্ষয়ে গেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ভাষায়—“ভারত কখনো উচ্চস্বরে বলে না। কিন্তু যখন বার্তা দেয়, তা খুব স্পষ্ট হয়। এবারও তাই হয়েছে।”
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ: ইউনুস সরকারের পায়ের তলায় মাটি সরে যাচ্ছে
বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনৈতিক মেরুকরণ চরমে পৌঁছেছে। সারা দেশে আওয়ামী লীগের গণআন্দোলন শক্তি পেয়েছে এবং বিভিন্ন জেলায় বিশাল জনসমাবেশে জনতার ঢল দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—
- গণমাধ্যমের কঠোর নিয়ন্ত্রণ
- ছাত্রদের ওপর নিপীড়ন
- রাষ্ট্রযন্ত্রের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ
- জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তির ওপর হামলা
এসবের কারণে ইউনুস সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। ফলে, দিল্লির সমর্থন ফিরে পাওয়া এখন তাদের জন্য বেঁচে থাকার কৌশল।
দিল্লির দৃষ্টিভঙ্গি: বাংলাদেশ নিয়ে নতুন হিসাব
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। কোনও অস্থিতিশীলতা সরাসরি ভারতের উত্তর-পূর্ব, পশ্চিমবঙ্গ এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।
নয়াদিল্লির হতাশার কারণগুলো—
- পাকিস্তান–বাংলাদেশ সামরিক যোগাযোগের বৃদ্ধি
- গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহজনক সিগন্যাল
- আঞ্চলিক জোটে ঢাকার অনিশ্চিত অবস্থান
- সীমান্তে নিরাপত্তা ঘটনার পুনর্বৃদ্ধি
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান এখন “কৌশলগত সতর্কতা”।
খলিলুর রহমানের দিল্লি সফর তাই কেবল কূটনীতি নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের প্রতিফলন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন: এই সফরে গোপন চুক্তি হচ্ছে কি?
ঢাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন—
এই সফরের মাধ্যমে ইউনুস সরকার ভারতের কাছে কোনো গোপন প্রতিশ্রুতি বা কৌশলগত বিনিময় করার চেষ্টা করতে পারে।
সন্দেহের পয়েন্টগুলো:
- বিরোধী দলের ওপর দমননীতি বাড়াতে ভারতের নীরবতা নিশ্চিত করা
- পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা কমিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক দেখানোর অভিনয়
- অভ্যন্তরীণ বৈধতা সংকট মোকাবেলায় দিল্লির সমর্থন চাওয়া
তবে ভারত বরাবরই “ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্র স্বার্থে” চলে—এটি তাদের স্থায়ী পলিসি।
দিল্লির সফর ইউনুস সরকারের বাধ্যতামূলক কূটনীতি
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক বরাবরই বাস্তবতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে চলে। রাজনৈতিক বৈধতা সংকট, জনতার বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে ইউনুস সরকার এখন ব্যাকফুটে।
এই সফর তাই একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে— “দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়া বাংলাদেশে কেউ স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।”
নিউজ রেফারেন্স-স্টাইল লিংক (উদাহরণ)
- The Hindu: thehindu.com/south-asia/bangladesh-security-advisor-delhi
- NDTV: ndtv.com/india-news/bd-advisor-to-meet-ajit-doval
- Times of India: timesofindia.com/india/bangladesh-delhi-visit
- Prothom Alo (Bangladesh media reports)
