ডেনমার্কে ড. নিয়াজকে রাষ্ট্রদূত করার উদ্যোগসহ আরও তিনজনকে কূটনীতিতে আনার পরিকল্পনা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এর পরিণতি সুখকর নাও হতে পারে।
প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তারিখ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫
ডেনমার্কে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কোপেনহেগেনের কাছে ইতোমধ্যে এগ্রিমো পাঠানো হয়েছে, এখন কেবল তাদের আনুষ্ঠানিক ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষা।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নিয়াজ আহমেদের নেতৃত্বগুণ, একাডেমিক পরিচয় ও পশ্চিমা নেটওয়ার্ক বিবেচনায় সরকার তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পাঠাতে আগ্রহী।
তবে সমালোচকরা বলছেন—
এই নিয়োগ “যোগ্যতার ভিত্তিতে” নয়, বরং “রাজনৈতিক আনুগত্য” ও “ব্যক্তিগত সম্পর্ক”-এর ফল।
আরও তিনজনকে রাষ্ট্রদূত করতে চায় সরকার
অন্তর্বর্তী সরকার শুধু এখানেই থামেনি। সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার নামও রাষ্ট্রদূত পদে বিবেচনায় রয়েছে—
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূত হতে পারেন। তার বোন হুসনা সিদ্দিকীকে নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করা হতে পারে।
লুৎফে সিদ্দিকী এবং হুসনা সিদ্দিকীর বাবা এওয়াইবিআই সিদ্দিকী শেখ হাসিনার আগের আমলে পুলিশের আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। লুৎফের সহোদরা হুসনা সিদ্দিকী তথ্য-প্রযুক্তিবিদ। তিনি কেপিএমজি ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে কর্মরত।
অপরদিকে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক (চুক্তিভিত্তিক) ও ইউনূস সেন্টারের সাবেক নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদকে ইউরোপের কোনো দেশে রাষ্ট্রদূত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সেখানে কোনো ভ্যাকেন্সি নেই বলে সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, কোপেনহেগেন ছাড়াও বিভিন্ন স্টেশনে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার পদ শূন্য রয়েছে বা শিগগির হচ্ছে। সেই তালিকায় আছে সিঙ্গাপুর, দ্য হেগ, থিম্পু, ইয়াঙ্গুন এবং তেহরান।
লুৎফের বোন ও সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের একজন। সর্বোপরি আত্মীয় কোটায় এই নিয়োগ বলে জনমনে আলোচনা আছে । চ
কেন সমালোচনা?
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র কাঠামোতে “অপেশাদার নিয়োগ” — এমন অভিযোগ রয়েছে একাধিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকের।
▪ অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের পাশ কাটিয়ে “আস্থাভাজনদের” বিদেশে পাঠানো
▪ আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
সমালোচকদের মতে—
“ইতিহাস বারবার সতর্ক করেছে—অপেশাদার কূটনীতি দেশের কণ্ঠস্বর দুর্বল করে।”
এছাড়া এই নিয়োগ ইউনুস সরকারের বিতর্কিত ব্যাক্তিদের সেইফ এক্সিটের প্লান হিসাবে দেখছে দেশের সচেতন মহল।
যোগ্যতা না আনুগত্য কোটা?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে বেড়েছে উদ্বেগ। এছাড়া জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে এই নিয়োগ কি যোগ্যতায় নাকি আনুগত্য বা আত্মীয় কোটায়?
এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করে জানান—
“রাষ্ট্রদূত পদ অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত দক্ষতার জায়গা।
সেখানে এইরূপ দূতদের নিয়োগ রাষ্টের নয় বরং সরকারের ব্যাক্তিদের নিজস্ব সুবিধা ভোগের অভিলাশ।”
তিনি আরও যোগ করেন—
“এটা কূটনৈতিক নিয়োগ নয় বরং সরকারের সুবিধাভোগীদের সেইফ এক্সিটের পরিকল্পনার অংশ।”
“সজ্ঞানে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ”?
সমালোচকদের ভাষায়—
এই নিয়োগ নীতি যদি সত্য হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশি কূটনীতির জন্য “ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক”।
মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়—
কিন্তু সরকার যদি তাতে কান না দেয়, তাহলে আবারও হতে পারে— “সজ্ঞানে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ।”
আগামী কয়েক সপ্তাহে ডেনমার্কের ক্লিয়ারেন্স ও সরকারের পরবর্তী নিয়োগ তালিকাই জানাবে—
বাংলাদেশ কোন পথে যাচ্ছে।
