মুনতাসির মাহমুদের অভিযোগ—পিপি নিয়োগে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। ফেসবুক লাইভে দুর্নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ কঠোর অভিযোগ তুলেছেন সদস্যসচিব আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে। দাবি করেছেন—পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিতে ৫০ লাখ টাকা করে ঘুষ দাবি করেছেন আখতার।
শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লাইভে এসে তিনি এসব বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ করেন।
লাইভের শুরুতেই মুনতাসির বলেন—
“আখতার হোসেন পিপি বানাতে ৫০ লাখ টাকা লাগবে বলেছেন। তাঁর লোকজন টাকা নিয়ে যোগ্য ব্যক্তির নামও কেটে দিয়েছে।”
শিরিন আক্তারের প্রস্তাব বিনা কারণে বাতিল—অভিযোগ আরও গভীর
মুনতাসির জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুরো দেশে পিপি নিয়োগের কাজ শুরু হয়। তিনি শিরিন আক্তার শেলীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন আসিফ নজরুলের কাছে। কিন্তু টাকা দেওয়ার জন্য আরেকজন নারীর নাম আখতার হোসেনের লোকজন ঢুকিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
তার অভিযোগ—“শিরিন আপা আওয়ামী লীগের আমলে অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন।
তার ছেলে হামলার শিকার হয়েছে।
কিন্তু আখতার ৫০ লাখ টাকা পাওয়ার জন্য তার নাম কেটে দিয়েছে।”
৫০ লাখের দাবি–১ লাখ নিলেই ‘রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে’
মুনতাসির দাবি করেন, আখতার তার পিএস আতিক মুন্সিকে পাঠান টাকা নেওয়ার জন্য। পরে শিরিন আক্তার পিপি হওয়ার খবরে খুশি হয়ে গাড়িতে বসে ১ লাখ টাকা দেন আতিককে।
এ অভিযোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে মুনতাসির বলেন— “এক লাখ টাকা দেওয়াতে আখতার ক্ষেপে যায়।
শিরিন আপাকে ফোন করে বলে—‘আতিক মুন্সি যা বলে, তাই আমার কথা।’”
মুনতাসির আরও দাবি করেন—পুরো ঘটনাই শিরিন আখতারকে চাপে ফেলতে এবং বাকি টাকার জন্য ব্ল্যাকমেইল করতে করা হয়েছিল।
জীবন হুমকির মুখে—তবুও দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করবেন, বললেন মুনতাসির
লাইভে মুনতাসির তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান— “এই দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করায় আমার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবুও আমি থামব না।
এনসিপির আরও দুর্নীতিবাজ নেতাদের তথ্য প্রকাশ করব।”
তিনি এটাও বলেন—দুর্নীতির মোট পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের নামও পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
এনসিপির নীরবতা—দলীয় তদন্ত হবে কি?
এ অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির শীর্ষ নেতারা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।
দলের ভেতরে তীব্র উত্তেজনা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে সংগঠন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং এনসিপির ‘নতুন রাজনীতি’র দাবিকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
