ফাতিহা আয়াতের অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে—পরিবেশ উপদেষ্টা কি উদাসীন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে তরুণ জলবায়ু কর্মীকে দমিয়ে রাখছেন? বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া।
বাংলাদেশের তরুণ জলবায়ু কর্মী ফাতিহা আয়াত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে জানিয়েছেন, এবারের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে তিনি অংশ নিতে পারেননি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের “উদাসীনতা ও উপেক্ষার” কারণে।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই সামাজিকমাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
“আমি অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করছি”—ফাতিহার বেদনার ভাষা
তার পোস্টে ফাতিহা লিখেছেন—
যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং দেশে কাজ করার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
এমনকি, বারবার যোগাযোগ করেও উপদেষ্টার কাছ থেকে একটি “১০ মিনিটের অ্যাপয়েন্টমেন্ট” পর্যন্ত পাননি তিনি।
এখানে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো—
তিনি নিজ খরচে যাওয়ার প্রস্তাবও করেন, যাতে সরকারের কোনো বাজেট ব্যয় না হয়।
তবুও উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া ছিল,
“Noted” —
অথবা
“Wish I had that 10 minutes.”
এমন প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে—
এটা কি সত্যিই সময়ের অভাব?
নাকি ইচ্ছাকৃত উপেক্ষা?
জলবায়ু কূটনীতিতে তরুণদের গুরুত্ব, কিন্তু বাংলাদেশে উল্টো চিত্র
আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে “Youth Voice” বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বিশ্বব্যাপী তরুণ অ্যাকটিভিস্টদের উপস্থিতি জলবায়ু নীতিতে নতুন চিন্তার দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
ফাতিহা উল্লেখ করেছেন—
তিনি নিউইয়র্কে থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ৭ বার বক্তৃতা দিয়েছেন, প্রতিবারই বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছেন।
এমন অভিজ্ঞ সম্পন্ন তরুণ প্রতিনিধিকে পাশে রাখার পরিবর্তে যদি বাংলাদেশ নিজ হাতেই তাকে বাদ দেয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই— এ কি উদাসীনতা, নাকি তরুণদের উদ্ভাসন দমিয়ে রাখার অসুস্থ প্রতিযোগিতা?
রিজওয়ানা হাসানের ভূমিকা: ব্যর্থতা নাকি ব্যক্তিগত মনোভাব?
সামাজিকমাধ্যমে আলোচনায় একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—
অনেকে মনে করছেন,
“জলবায়ু আন্দোলনে নিজের প্রভাবশালী অবস্থান বজায় রাখতেই অন্য উদীয়মান কণ্ঠকে প্রান্তিক করে রাখা হচ্ছে।”
কেউ কেউ বলছেন—
বাংলাদেশের অনেক খাতেই একই সমস্যা—
“যে নিজে আলোতে থাকতে চায়, সে অন্য কাউকে আলোতে আসতে দেয় না।”
রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত পরিবেশ অধিকারকর্মী, সন্দেহ নেই।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—একজন উপদেষ্টা কি ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে জাতীয় প্রতিনিধিত্ব বাধাগ্রস্ত করতে পারেন?
দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ‘স্পটলাইট’ কি বড় হয়ে উঠেছে?
যৌথ নদী, জলবায়ু তহবিল—যেখানে ফাতিহার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল
ফাতিহার অভিজ্ঞতার তালিকা ছোট নয়—
✔ Kyoto Protocol
✔ Bali Endorsement
✔ Copenhagen Accord
✔ Paris Agreement
✔ Glasgow Pact
এগুলো শুধু আন্তর্জাতিক চুক্তির নাম নয়—
বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের অংশ।
বিশেষ করে যে দিনগুলোতে—
• নদীভাঙন
• উপকূলীয় লবণাক্ততা
• অনিয়মিত বর্ষণ
• জলবায়ু শরণার্থী বৃদ্ধি
এসব সংকট তীব্র হচ্ছে—
তখন একজন তরুণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিনিধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন।
কিন্তু তাকে সুযোগই দেওয়া হয়নি।
সমালোচকদের প্রশ্ন: এটি কি ইচ্ছাকৃত দমননীতি?
বিশ্লেষকরা বলছেন—
বাংলাদেশের রাজনৈতিক–প্রশাসনিক সংস্কৃতির একটি দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো—
“তোমার আলো যদি আমার আলোকে ম্লান করে—তবে তোমার আলো নিভিয়ে দিই।”
ফাতিহার পোস্টও যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতি কি ব্যক্তি-নির্ভর হয়ে যাচ্ছে?
যখন বাংলাদেশের জন্য Green Climate Fund থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল আনার লড়াই চলছে, যখন উপকূল রক্ষা জরুরি, যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে শক্ত প্রতিনিধিত্ব দরকার—
তখন অভ্যন্তরীণ উদাসীনতা ও প্রতিযোগিতা দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ছাড়া আর কিছুই করবে না।
আজকের প্রশ্ন— দেশের স্বার্থ কি ব্যক্তিগত অহংকারের কাছে বন্দী হয়ে যাচ্ছে?
তরুণ কর্মীদের দমিয়ে রেখে বাংলাদেশ কীভাবে জলবায়ু বৈশ্বিক রাজনীতিতে টিকে থাকবে?
