কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত GPS জ্যামিংয়ের রিপোর্টে বিস্ময়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সক্রিয়তার সন্দেহ। কারণ অজানা।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW) কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে এবার একই ধরণের GPS জ্যামিং দেখা গেল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিকটবর্তী কলকাতা বিমানবন্দর এবং আশেপাশের ৬০ নটিক্যাল মাইল এলাকায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে GPS স্পুফিং রেকর্ড হওয়ার পর এবার পূর্ব ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলেও একই ধরনের অস্বাভাবিক সিগন্যাল শনাক্ত হয়েছে।


GPS জ্যামিংয়ের উৎস—কারা দায়ী?
এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না কারা জড়িত। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা—এটি ভারতীয় বাহিনীর নিজস্ব EW সক্ষমতার পরীক্ষামূলক ব্যবহার হতে পারে।
কারণ—
- প্রতিটি EW সিস্টেমের কার্যক্ষমতা নির্দিষ্ট রেঞ্জের বাইরে যায় না
- কলকাতা সামরিক, নৌবাহিনী ও বাণিজ্যিক রুটের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
- সীমান্ত এলাকায় পরীক্ষামূলক অনুশীলনের সম্ভাবনা ভারতীয় বিশ্লেষকেরাও বিবেচনা করছেন
তবে অন্য একটি মত—তৃতীয় কোন দেশের হস্তক্ষেপ—ভারতের প্রতিরক্ষা মহলেও আলোচিত হচ্ছে। বিশেষত সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে বিদেশি EW প্ল্যাটফর্মের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই GPS জ্যামিং অঞ্চলগুলো?
ভারতে যেসব তিনটি এলাকায় বর্তমানে GPS স্পুফিং দেখা গেছে—
- পাকিস্তান সীমান্ত
- দিল্লি-মুম্বাই করিডর
- কলকাতা–বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকা
এই তিনটি অঞ্চলই—
✔ বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
✔ সামরিকভাবে কৌশলগত
✔ রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
“এই তিনস্থানে ধারাবাহিক জ্যামিং কাকতালীয় নয়।”
বিমান চলাচলে ঝুঁকি কতটা?
কলকাতা বিমানবন্দরের আশপাশে GPS নির্ভর নেভিগেশন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এমন এলাকায় GPS স্পুফিং হওয়া মানে—
- বিমান ভুল অ্যালটিচুড দেখাতে পারে
- নেভিগেশন ফ্লাইট পাথ ভুল হতে পারে
- জরুরি অবতরণে ঝুঁকি বাড়তে পারে
তবে ভারতের DGCA বলেছে—এখনো পর্যন্ত এই জ্যামিং বিপজ্জনক মাত্রায় যায়নি। এটি এখনো “গ্রে-জোন অ্যাক্টিভিটি”, যেখানে মূলত সিগন্যাল বিভ্রান্তি, ভুল লোকেশন ও ইন্টারমিটেন্ট নেভিগেশন লস দেখা যায়। তবুও সতর্কতা হিসেবে ভারত তিনটি NOTAM (Notice to Airmen) জারি করেছে।
EW কার্যক্রম খুঁজে বের করা এত কঠিন কেন?
ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল।
কারণ—
- জ্যামিং সিগন্যাল সাধারণত খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়
- এর উৎস কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মিলিয়ে যেতে পারে
- মোবাইল বা ভ্যারি-ব্যান্ড ট্রান্সমিটার ব্যবহার করলে শনাক্ত করা আরও কঠিন
- শান্তিকালীন সময়ে এগুলো চিহ্নিত করতে প্রয়োজন উচ্চমানের EW বিশেষজ্ঞদের
ভারতে এখনকার জ্যামিং—
✔ সামরিক অনুশীলন
✔ তৃতীয় দেশের পরীক্ষা
✔ বা অনিচ্ছাকৃত সিগন্যাল লিকেজ—
যে কোনো কিছু হতে পারে।
স্পষ্ট প্রমাণ নেই, তবে ঘটনাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ কী?
কলকাতা বাংলাদেশের এত কাছাকাছি যে, এই ধরনের স্পুফিং বাংলাদেশের
- বিমান চলাচল
- সামরিক রাডার
- নৌ নেভিগেশন
- জিও-লোকেশন সিস্টেম
—এসব ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এখন বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
